হিসেবেই হিমশিম, চাপ বাড়ছে তৃণমূল অন্দরে

ভোট পর্ব মিটে গিয়েছে ৫মে৷ কিন্তু ফল জানার জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হবে ১৯মে পর্যন্ত৷ উদ্বেগ কাটাতে না পেরে অধৈর্য হয়ে পড়ছেন তৃণমূল শিবিরের একাংশ৷ চাপ কাটাতে এরাই নিজেদের মধ্যে ভোটের ফলের হিসেব কষতে বসে হিমসিম খাচ্ছেন৷ চাপ কাটানোর বদলে ওই হিসেবের হিমসিম চাপ বাড়িয়ে তুলছে তৃণমূলীদের একাংশকে ৷ কারণ শেষের দিকে ভোটের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যাওয়ায় তখন আর শাসক দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট করানো সম্ভব হয়নি৷ ফলে কারা-কোথায়-কাকে ভোট দিচ্ছেন সেটাই মূল্যায়ন করতে পারছেন না তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারেরা৷ কার্যত ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ৮০টি আসনে ঠিক ভাবে ভোটের হিসেবই কষা সম্ভব হচ্ছে না৷ যেগুলি মূলত কলকাতা, দুই ২৪পরগণা, হাওড়া ,হুগলী, বর্ধমান জেলাজুড়ে রয়েছে৷ শুধু তাই নয় তৃণমূলের বেশির ভাগ হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরাই এই সব আসনে প্রার্থী ৷ তাঁদের  ফলের জন্য এক পক্ষকাল ধরে অনিশ্চয়তার প্রহর গুণতে গিয়ে কিছুটা ধৈর্য্যচুতি ঘটছে৷ ভোট ম্যানেজারদের মনে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে এই সব আসন গুলিতে অঘটন ঘটলে ক্ষমতায় আসা যাবে কি না? তেমন কিছু ছন্দপতনের পরেও শেষ মেশ ক্ষমতায় এলেও নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করছেন তাঁরা ৷SALT LAKE VOTE PICX 14

মাসখানেক সময় নিয়ে ছয় দফা (সাতটি দিনে) এবারের বিধানসভার ভোট পর্ব চলেছে ৷ গোটা প্রক্রিয়াটি এত দিন ধরে চলায় ভোটের শুরু আর ভোটের শেষে প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছে ৷ আস্তে আস্তে নির্বাচন কমিশনের এই ভোটের লাগাম যত নিজের হাতে তুলে নিতে দেখা গিয়েছে ততই যেন শাসক তৃণমূলের স্নায়ুর চাপ বেড়েছে৷ পাশাপাশি কিছু সংবাদ মাধ্যেমর রিপোর্টও তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে৷ ভোটের প্রচারে শাসক দলের এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ প্রথম দিকে সারদা-নারদা-উড়ালপুলকে তেমন গুরুত্ব দিতে না চাইলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার সভায় পরের দিকে এইগুলিই গুরুত্ব পেয়েছে৷ প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উন্নয়নকে প্রচারের হাতিয়ার করতে চাইলেও পরের দিকে উড়ালপুলের ক্ষেত্রে তাঁরা দোষী নন কিংবা নারদা যাই বলুক না কেন ওই নেতারা চোর নয় সেটা বোঝাতে তাঁকে বেশি সময় ব্যয় করতে দেখা গিয়েছে৷ এমন কী তিনি বার্তাও দিয়েছেন – আগে জানলে নারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রার্থীদের বদলে দিতেন৷ খোদ নেত্রীর এই স্নায়ুর চাপ অবশ্যই চিন্তায় ফেলেছিল ভোট ম্যানেজারদের৷ অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ পেয়ে একদল পুলিশ এবং আমলাদের সরিয়ে দিয়েছে৷ পরিস্থিতি বিচার করে ভোটের দিন শাসক তৃণমূলের প্রতি আগের মতো আনুগত্য দেখায়নি পুলিশ৷ আর এই পুলিশের আচরণের এই পরিবর্তন শুধু ভোট ম্যানেজারদের ভোটের দিন পিছু হটাতে বাধ্য করেনি, এখনও দুশ্চিন্তায় রেখে দিয়েছে৷ কারণ এমনই নাকি একটা প্রবাদ আছে – পরিবর্তনের গন্ধ নাকি পুলিশই সবার আগে পেয়ে থাকে৷ সেক্ষেত্রে পুলিশের আনুগত্য সরে যাওয়ায় এই ভোট ম্যানেজারদেরও ধন্দে ফেলে দিয়েছে ক্ষমতায় আসা নিয়ে৷

তবে সবচেয়ে বড় কথা ভোটের লাগাম নিজেদের হাতে না থাকায় ওই ৮০টির মতো আসনে ভোট অনুকূলে গেল না প্রতিকূলে সেটাই বুঝে উঠতে না পারা ৷ আর সেটা তাঁরা বুঝে উঠছেন না কারণ ২০১১ সালে পালা বদলের পর এরা ক্ষমতায় আসার পর এখানে সে অর্থে অবাধ ভোট হয়নি৷ কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী তো একেবারে সেই সব ভোটারদের বুথে পৌছে দিয়েছেন৷ সেখানে প্রশ্ন এই সব ভোটাররা শেষমেশ কাদের ভোট দিয়েছে ? উন্নয়নের কাজের নিরিখে শাসক দলের ঝুলিতেই এসেছে নাকি এই সব মানুষদের আগে ভোট দিতে না দেওয়ার ক্ষোভে এবার সুযোগ পেয়ে উল্টো ভোট দিয়েছে? অন্যদিকে আবার লোক দেখান বাম-কংগ্রেস জোট শিবিরের একটা আত্মবিশ্বাসের হাসি এবং প্রচার ক্রমশ ব্যাকফুটে ফেলে দিচ্ছে শাসক শিবিরকে ৷ এদের মানসিক ভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলের অনেক লোকই এখন শাসক বিরোধী হয়ে উঠেছে সেটাই ভোট যন্ত্রেই প্রকাশ পাবে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রচারকে একেবারে উড়ি

- Advertisement -

vote

য়ে দিতে চাইছে না তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারেরা৷ তাই ফল প্রকাশের আগেই কেউ কেউ বুঝে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন তাঁর এলাকায় সত্যিই তৃণমূলের প্রতি অনুগত কতজন রয়েছে আর কতজন অন্তর্ঘাতে লিপ্ত ৷ ভোটের হিসেব করতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে কেমন একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে এখন শাসক শিবিরে৷ এমন কানাঘুষোও শোনা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই নাকি বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসার জন্য শাসক দলের কিছু নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন – উদ্দেশ্য ফল প্রকাশের পর দল ভাঙান৷ তবে নানা রকম প্রচার আর সোশ্যাল মিড়িয়ার কানাঘুষোকে অত পাত্তা না দিয়ে বরং ১৯ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করেই দেখা যাক না৷ সেদিনটাই তো বলে দেবে কোনও অঘটন ঘটছে নাকি শুধুই আশংকা মাত্র ৷

—————————————————————————-

Advertisement ---
-----