স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: কে হবে পঞ্চায়েত প্রধান? তাই নিয়েই চলছিল দ্বন্দ্ব। দীর্ঘদিনের সেই দ্বন্দ্ব শেষ হল একটি প্রাণের বিনিময়ে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কৈথন গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম সাহাঙ্গীর সেখ। এই ঘটনায় আরও একজন জখম হয়েছেন, তাঁর নাম জাহাঙ্গীর সেখ।

আরও পড়ুন- আজ পঞ্চায়েত মামলার চূড়ান্ত রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি জারির সময় থেকেই নানা প্রকারের হিংসার ছবি সামনে এসেছে। মনোনয়ন পর্বেও দেখা গিয়েছিল হিংসার ছবি। ভোটগ্রহণের সময়েও অব্যাহত ছিল ছিল সেই হিংসা।

রাজ্যের সকল প্রান্তেই দেখা গিয়েছিল হিংসার ছবি। বহু মানুষের খুন হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। প্রায় সবক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় উঠেছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের পরে নয়া চিত্র দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। শাসকের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রাণ হারাতে হল দলেরই এক কর্মীকে।

আরও পড়ুন- পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করা নিয়ে সংঘর্ষ সিমলাগড়ে

পূর্ব বর্ধমান জেলার গিধগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, বোর্ড গঠন হয়নি। পঞ্চায়েত প্রধান কে হবেন তা নিয়ে শুরু থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল শাসক দলের অন্দরে। বিদায়ী বোর্ডের প্রধান ফের প্রধানের আসনে বসতে চাইছিলেন। বিরুদ্ধ গোষ্ঠী বাধা দেওয়ায় শুরু হয় বিবাদ।

এই বিবাদের কারণেই দীর্ঘদিন গ্রাম ছাড়া ছিলেন মৃত সাহাঙ্গীর সেখ। বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামে ফিরেছিলেন। আর সেটাই তাঁর কাল হল। ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি ফেরার খবর পেতেই তাঁর উপরে হামলা চালানো হয়। রাতের দিকেই ধাওয়া করে নিয়ে যাওয়া হয় একটি জলাশয়ের কাছে। সেখানেই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়।

আরও পড়ুন- তৃণমূলে নাম লেখাতেই মেয়ের চাকরি, দুর্নীতির অভিযোগ পরেশের বিরুদ্ধে

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে মৃত ব্যক্তি ভোটে প্রার্থী ছিলেন না। তাঁর পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার কোনও সম্ভাবনাও ছিল না। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন। বিদায়ী বোর্ডের প্রধানের বিরোধী গোষ্ঠীর লোক বলেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

----
--