স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কলেজে ছাত্র ভরতির নামে তোলবাজির অভিযোগে ২ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ লালাসাহেব গুপ্ত ও রীতেশ কুমার জয়সওয়াল নামের ওই দু’জন ছাত্র নেতাকে শনিবার মহারাজা শ্রীশ চন্দ্র কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়৷

তোলাবাজি বন্ধ করতে একাধিক বার হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ এবার তোলাবাজি বন্ধ করতে আরও কড়া হচ্ছে শিক্ষা দফতর৷ শনিবার সব কলেজের অধ্যক্ষদের বৈঠকে ডেকেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন‘‘তোলাবাজির কোনও রং হয় না৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এর শেষ কোথায় দেখতে চাই৷’’ পড়ুয়া, অভিভাবকদের থানায় অভিযোগ জানাতেও এদিন নির্দেশ দেন তিনি৷

Advertisement

থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রীও৷ কলেজে কলেজে দেদার তোলাবাজির অভিযোগ পেয়েই পুলিশ কমিশনারকে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত খোলা হয়েছে পুলিশ হেল্পলাইন নম্বর৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে কড়া শাস্তির কথা জিনিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই সোমবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি কলেজে বারতি পুলিশ মোতায়ন করা হবে৷ কলেজর আশেপাশে কোনও বহিরাগতদেরও থাকা চলবে না৷ মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা ‘‘ছাত্র ভরতিতে তোলাবাজি বরদাস্ত নয়৷’’

তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে ২১ জুন বাংলার যুব সমাজ তথা ছাত্র সমাজকে বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শিক্ষামন্ত্রীও একাধিকবার এই ছাত্র ভরতির নামে তোলাবাজি বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই৷ তোলাবাজি বন্ধ করতে, অনলাইনে ভরতি প্রক্রিয়া চালুর কথাও শোনা গেছে৷ কিন্তু কোথায় কি? তোলাবাজি যে তিমিরে ছিল এখনও আরও বেড়েছে বৈকি৷ রাজ্যের এক এক কলেজে এক এক রকম টাকার ডিমান্ড৷ ভরতি হতে লাগছে না নম্বর৷ ছাত্র নেতারা স্পষ্ট জানাচ্ছেন শুধু নম্বর দিয়ে কাজ হবে না, লাগবে টাকা৷ সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভরতি হতে লাগছে ৫০ হাজার টাকা৷ শ্রীশচন্দ্র কলেজে লাগছে ৮০ হাজার৷ বারাসত কলেজে ভরতি হতে লাগছে ১ লক্ষ ২০ হাজার৷

ছাত্র পরিষদ সভানেত্রী জয়া দত্ত সাংবাদিকদের জানান, ‘‘ দলের কেউ এরকম করল কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ দল থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে৷’’ তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে৷

তবে কলকাতা বেশ কয়েকটি কলেজেই গেট আটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ছাত্র নেতাদের৷ মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ এমনকি নিজেদের ফোন নম্বর দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে৷ তাই মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ব্যবস্থা, শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে আদৌ কাজ হবে কিনা তা সময়ই বলবে৷

----
--