দেবযানী সরকার, কলকাতা: শিক্ষকদের হেনস্থা কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না৷ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই নেতা৷ মঙ্গলবার অধ্যাপিকাদের কলেজে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে রিয়াজউদ্দিন লস্কর ও সবুক্তিগণ লস্কর ওরফে বাবু বিরুদ্ধে৷ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলির বি আর আম্বেদকর কলেজে৷ অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে কলেজের অধ্যক্ষা শিউলি সাহা দালাল প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে৷

সারা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে৷ দলনেত্রী তথা মুথ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কড়া বার্তা দিলেও সেকথা কানে তুলল না শাসক দলের এই ছাত্র সংগঠন৷ তার প্রমাণ বি আর আম্বেদকর কলেজের ঘটনা৷ এদিন ছুটির পর কলেজ থেকে বেরোতে গিয়ে টিএমসিপির বাধার মুখে পড়লেন অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা৷

Advertisement

পড়ুন: সমাবর্তন না হওয়ার দায় প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষের ঘাড়েই চাপাল পড়ুয়ারা

অধ্যাপিকা সংঘমিত্রা সরকারের অভিযোগ, আমরা যখন সই করতে যাই তখন ইউনিয়নের ছেলেরা কলেজের গেট বন্ধ করে দেয়৷ তখন আমরা প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে জানতে চাই যে আপনি কি কোনও লিখিত নোটিশ দিয়েছেন গেট বন্ধ করার৷ তখন উনি বলেন, ইউনিয়ন যা বলবে তাই হবে৷ সেইসময় ওদের প্রাক্তন জিএস আর ভাইস প্রেসিডেন্স রিয়াজউদ্দিন লস্কর ও সবুক্তিগণ লস্কর ওরফে বাবু ওরা দুজন খুব বাজে ভাষায় আমাদের সঙ্গে কথা বলেন৷এই দুজনের বিরুদ্ধেই কুলতলি থানাতে অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা৷

সরাসরি স্বীকার না করলেও ঘুরিয়ে অভিযোগ স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষা শিউলি সাহা দালাল৷ ঝাঁঝালো স্বরে তিনি বলেন, ওদের সাড়ে চারটে পর্যন্ত কলেজে থাকার নিয়ম৷ তার আগেই কেন বেরিয়ে যাবে কলেজ থেকে? কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে কি অধ্যাপিকাদের এইভাবে আটকে রাখা যায়? অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে কলকাতা 24×7-কে তিনি বলেন, কেউ কোনও গেট আটকায়নি৷ ছাত্রদের সঙ্গে ওদের তর্কাতর্কি হয়েছিল শুধু৷

পড়ুন: অনুব্রতর ‘বিস্ফোরক’ প্রার্থনা উড়িয়ে দিলেন তারা মা

অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের বক্তব্য, বায়োমেট্রিকের জন্য ফুল টাইম টিচাররা অনেকদিন ধরে অধ্যক্ষার কাছে আবেদন জানিয়েছে৷ তাদের অভিযোগ, প্রিন্সিপাল সেটা কোনওভাবেই হতে দিচ্ছেন না৷ এক অধ্যাপিকার বক্তব্য, আমরা যদি কম কাজ করি তাহলে তো বায়োমেট্রিকেই সেটা ধরা পড়বে৷ কেন উনি কলেজে সেটা বসাতে দিচ্ছেন না? বায়োমেট্রিক বসালে কি ওর কোনও অসুবিধা হবে?

অন্যান্য অধ্যাপকদের বক্তব্য, ‘‘যে কোনও কলেজেই প্রিন্সিপ্যালরা প্রোফেসরদের অভিভাবক হন৷ সেক্ষেত্রে উনিই যদি আমাদের প্রাথমিক নিরাপত্তা না দিয়ে আরও অসম্মানের মুখে ঠেলে দেন তাহলে আমরা কি করব?’’

এব্যাপারে টিএমসিপির কনভেনর জয়া দত্তের বক্তব্য, এটা কলেজের একদম আভ্যন্তরীণ বিষয়৷ অধ্যক্ষার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ উনি বলেছেন এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি৷ কিন্তু এই ঘটনা খুবই নিন্দনীয়৷ যদি দেখা যায় ওই দুজন সত্যিই অন্যায় করেছে তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

----
--