বিজেপি ঠেকানোর অস্ত্রেই মান বাঁচানোর চেষ্টা অভিষেক বাহিনীর

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ব্যানারে বিজেপিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। আবার সেই ব্যানারেই যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুষ্ট করার চেষ্টা দলের জুনিয়রদের। কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। বিগত কয়েক মাসে ব্যানারই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের ‘বিজ্ঞাপন’-কে তুলে ধরেছে। কখনও সেই ‘বিজ্ঞাপনে’ স্পষ্ট প্রতিপক্ষ দমনের চেষ্টা , কখনওবা চেষ্টা নিজেদেরই মান ফিরে পাওয়ার।

সম্প্রতি মেদিনীপুর থেকে কলকাতা যেখানেই বিজেপির সভা হয়েছে সেখানেই নিজেদের ব্যানার বসিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। প্রত্যেক ব্যানার বিজেপিকে লক্ষ্য করে ছিল বাক্যবাণ। বিজেপি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, তৃণমূল রাজ্যে নোংরা রাজনীতি করে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, মেয়ো রোডের সভার শেষে বিজেপি কর্মীরা রাগে তাদের ওই সব ব্যানার ছিঁড়ে দিয়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে বিজেপি মাত করার এক সার্বিক প্রচেষ্টা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের।

- Advertisement -

আবার সেই ব্যানারেরই ‘অর্থ’ বদলে গেল তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের জন্মদিবসে। সভার অদ্যপন্ত একের পর এক ব্যনারে কখনও লেখা, ‘দিদি , তোমার জন্যই আমরা’, কখনওবা লেখা হয়েছে, ‘দিদি যেমনটি চাও তেমনই হবে’। কলেজের ছাত্র ভরতির প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর রাগ কমাতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ সেই ব্যনারের আড়ালে থেকে নানা বার্তা দিতে চাইল। যেন তাঁরা দিদিমণির বেয়ারা নয় ‘লক্ষ্মীছানা’-টি। অর্থাৎ, মাধ্যম একটাই। কিন্তু স্থান, কাল, পাত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এমন ভাবেই বদলে গেল উদ্দেশ্য, বিধেয়।

মঙ্গলবার ২৮ আগস্টের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠেই তাঁর ছাত্র জীবনের উদাহরণ পেশ করলেন ছাত্রদের সামনে। সত্তরের দশকের একটি ঘটনা বলেন তৃণমূল নেত্রী। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর ছাত্র নেত্রী মমতাকে ডেকে বলেছিলেন, “শুনেছি তুমি কলেজে খুব দুষ্টুমি করো৷ কিন্তু আজ তোমার বক্তব্য শুনে দাঁড়িয়ে পড়লাম৷’’ এরই পাশাপাশি তিনি ছাত্র নেত্রীর ভাষণের তারিফও করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন এই বক্তব্যের মাধ্যমে বলতে চাইলেন, ছাত্র রাজনীতিতে দামাল হওয়া প্রয়োজন কিন্তু নৈতিক বোধ হারানোর কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি যে সম্প্রতি ছাত্রদের কাজকর্মে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ তাঁর এই বক্তব্যেই স্পস্ট হয়ে উঠেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ সভা চত্বর জুড়ে যে সব ব্যানার রেখেছিল সেগুলির এমন লেখাও ছিল যেখানে বলা হয়েছে, ‘দিদি, তোমার ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে কোমর বাঁধছি’, ‘দিদি, কি করতে হবে বল’-র মত ব্যানারও। এখন বিজেপিকে ঠেকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক সভায় সুর চড়ান। বিজেপিকে তিনি বারংবার সাম্প্রদায়িক দল বলে এসেছেন। ছাত্র নেতারা ভালো মতোই জানেন এমন দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারলে আবারও তাঁরা ফিরতে পারেন মমতার গুডবুকে। এর জন্য শ্রেষ্ঠ দিন অবশ্যই টিএমসিপি-র জন্মদিবস পালনের সভা।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা অবশ্য উলটো সুরই গাইলেন। উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন ছাত্র নেতা ও আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “এসবই দলের আবেগ। দেশে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে সরকার বদলেছে এমন রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। সেই আন্দোলনকে সামনে রেখেই এগোতে চায় দল। দিদিকে তুষ্ট করার কোনও প্রসঙ্গ নেই এখানে। এসবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা।” ছাত্র নেত্রী মৌমিতা বলেন, “দল থেকে যা বলা হয়েছে তাই করা হয়েছে। এর সঙ্গে কলেজ প্রসঙ্গের কোনও প্রশ্নই নেই। আমি মনে করি না ওনাকে তুষ্ট করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল। উনি জানেন ছাত্র পরিষদ কতটা তাঁকে মান্য করে। জানেন ছাত্র নেতাদের ভূমিকা।”

Advertisement ---
-----