‘জাদুমন্ত্র’ এই শব্দটি শুনলেই অনেকে ভাবেন যে এই কাজকর্ম শুধু তান্ত্রিক বা ডাইনিদের মধ্যে আবদ্ধ। কিন্তু সবসময় এমনই হয় না। অনেক সময় নিজের আধ্যাত্মিক শক্তি এবং ইতিবাচক সত্তা দিয়েও জাদুমন্ত্র করা যায়। তবে কারোর ক্ষতির জন্য নয়। নিজের মনস্কামনা শক্তিশালী হলেই এই জাদু বিদ্যায় রত হওয়া যায়।

আধ্যাত্মিক বিদ্যায় বলা হয় প্রতিটি মানুষের মধ্যেই এক একটি বিশ্বের ন্যায় শক্তি থাকে। সেই শক্তিকে আরো পুষ্ট করতে অমাবস্যার দিনগুলি যথাযথ। ২৬ এপ্রিল অমাবস্যা। এই দিনটিকে আপনিও কাজে লাগিয়ে নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন।

Advertisement

জাদুমন্ত্র শুরুর আগে নৈতিক মর্যাদার ও ইতিবাচক চিন্তার কথা মাথায় রাখুন। যাদের মস্তিষ্কে আপনি এর প্রভাব ফেলতে চান তাদের উপর যেন কোনও কুপ্রভাব না পড়ে তাই নিজেরমনকে পরিস্কার রাখা প্রয়োজন। তাই এই জাদুবিদ্যাকে ‘সাদা জাদু’ বলা হয়। কালো জাদু নিজের খারাপ নেতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্যের ক্ষতির জন্য করা হয়। সাদা জাদুতে ঠিক উল্টোটাই হয়।

এই জাদুবিদ্যা কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ নয়। সপ্তম শতকের সময় বৌদ্ধ ধর্মীয়রাও ইতিবাচক শক্তি কাজে লাগিয়ে তন্ত্র সাধনা বা সাদা জাদুবিদ্যা করতেন বলে শোনা যায়। অমাবস্যার রাতই এই জাদুবিদ্যা অভ্যাসের জন্য যথাযথ, কারণ এই অমাবস্যা বলতে বোঝায় ‘আরম্ভ’।
অমাবস্যার দিন কীভাবে করবেন এই সাদা জাদু বিদ্যা?

একটি ফুলের সাজি, কোনও ফল বা সবজির বীজ, মাটি, একটি কাগজের টুকরো, একটি পেন, একতি মোমবাতি আর এক বোতল জল (সম্ভব হলেও কোনও সমুদ্র বা নদীর জল)। যে ব্যক্তিকে ভালোবাসেন বা কামনা করেন , তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ছবি, কোনও উপহার, কোনও গয়না কে হেমের সুতো, বা ফিতে দিয়ে বেঁধে নিন বাইরে বেরোনর আগে। বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দ মত একটি জায়গা বেছে নিন। জলের ধারে হলে সবথেকে ভালো। এরপর প্রেমের দেবীকে বা ভেনাস দেবীকে স্মরণ করুন। এরপর সেই দেবী, জল, চাঁদ, এবং মোমবাতির আলো, মাটি, এবং আনুষঙ্গিক জিনিসের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করুন। হাতে একতি কাঁচের বল রাখুন। এরপর কাগজের টুক্রোতে নিজের নাম ও অপর ব্যক্তির নাম লিখুন যার মন থেকে নেতিবাচক শক্তি আপনি সরিয়ে ফেলতে চান। এরপর কাগজটিকে ভাঁজ করে ওই ফুলের সাজির মধ্যে রাখুন। এরপর সুতোয় বাঁধা সেই ছবি বা উপহারও ফুলের সাজিতে রাখুন। মাটি দিন তার উপর। তারপর জল ঢালুন। এরপর চখ বন্ধ করে পদ্মাসনে বসে মনস্কামনার কথা স্মরণ করুন।

----
--