সুমন বটব্যাল, কলকাতা: দলের প্রথমসারির নেতাদের জেলে ঢুকিয়ে তাঁকে খুন করার চক্রান্ত করছে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর সরকার৷ বুধবার মেয়ো রোডে ‘সংহতি দিবস’ মঞ্চের সভা থেকে ফের এই অভিযোগ করলেন তৃণমূল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতার কথায়, ‘‘প্রতিবাদ করলেই এজেন্সি পাঠানো হচ্ছে। বলছে অভিষেক, সুব্রত, ববি, শুভেন্দু, পার্থ-রা কথা বললেই জেলে ঢুকিয়ে দেবে৷ আর আমাকে খুন করে দেবে৷’’

এরপরই সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতি তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘এভাবে আমাদের রোখা যাবে না৷ যতদিন বাঁচব, আওয়াজ কিন্তু বেরুবে৷ আমার কন্ঠরোধ করতে পারবেন না৷’’ কর্মীদের উদ্দেশ্য তাঁর সতর্কতা, ‘‘তৈরি হন, নজর রাখুন৷ অচেনা লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখলেই পুলিশকে খবর দিন। নিজের আইন হাতে তুলে নেবেন না।’’

নিজেকে ‘ভিখারির পার্টি’র দলনেত্রী হিসেবে দাবি করে মমতা বলেন, ‘‘কত কষ্ট করে দলটা চালায়, সেটা আমি জানি৷ অথচ এরকম একটা ভিখিরির পার্টিকেই রোজ একটা করে ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ পাঠাচ্ছে৷’’ এরাজ্যের প্রাক্তন শাসক বা দেশের বর্তমান শাসকের মতো তিনি যে প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি করেন না, তাঁর ব্যাখ্যা হিসেবে দলনেত্রী বলেছেন, ‘‘আমি গ্যারেন্টি দিয়ে বলছি- এরাজ্যে তৃণমূলের যত কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, সিপিএম কিংবা বিজেপির অত কর্মী গ্রেফতার হয়নি৷’’

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পাল, মদন মিত্রকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে মমতা বলেন, ‘‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাকেও জেলে তিন মাস ভরে রাখা হল৷ তাপস শুধু বিজ্ঞাপনে ছিল, তবু ওকে জেলে ভরে দিল৷ কিছুই করেনি, তবু মদনকে আটকে রেখে দিয়েছিল ১ বছর৷ সবাই চোর৷ শুধু ওরাই সাধু৷’’

ওয়াকি বহাল মহলের মতে, মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এরাজ্যের প্রথমসারির একাধিক তৃণমূল নেতাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারির প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে কেন্দ্রের তরফে৷ স্বভাবতই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এবিষয়ে মুখ খুলে বিজেপিকে চাপে রাখার প্রক্রিয়া জারি রাখলেন দলনেত্রী৷

----
--