ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মশা মারতে ছড়া কাটল মমতার সরকার

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের কাজে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে৷ তবে, মশা মারতে কামান দাগা নয়৷ বরং, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এ বার মশা মারতে ছড়া কাটল রাজ্য সরকার৷

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে৷ যদিও, এই বছরেও এ রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়নি৷ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, চলতি বছরের খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত অন্য বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কম দেখা যাচ্ছে৷ না হলে, পরিকাঠামোগত খামতি থাকার কারণে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মোকাবিলার বিষয়টি রাজ্য সরকার সামলাতে পারত না৷

আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মশা মারতে এ বার ছড়া কাটল রাজ্য সরকার৷ ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের কাজে সাধারণ মানুষের মধ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শনিবার, দুই সেপ্টেম্বর বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ প্রকাশিত ওই বিজ্ঞাপনে লেখা রয়েছে, ‘মারতে মশা– জাহানকোষা নয়! / ঢাল-তলোয়ার বারুদ-বোমাও নয়! / একটু নজর আগেপিছে / কোনখানে জল জমে আছে, / তার সঙ্গে সদিচ্ছাতেই আসল কাজটি হয়৷’

- Advertisement -

বিভিন্ন মহল থেকে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের কাজে সাধারণ মানুষের মধ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত এই ছড়া আসলে লিখেছেন স্বাস্থ্য দফতর নিজের অধীনে রাখা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে, এই বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি৷ এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘এই বিজ্ঞাপনটি রাজ্য সরকার দিয়েছে৷ রাজ্য সরকারই এটা লিখেছে৷’’

তবে, চলতি বছরে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় যেভাবে কমেছে বলে দেখা যাচ্ছে, সেই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘‘প্রতিরোধের জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে৷’’ স্বাস্থ্য অধিকর্তা এমন কথা বললেও, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ডাক্তারদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার সজল বিশ্বাস অবশ্য বলেছেন, ‘‘খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে৷ কখনও গরম, কখনও বৃষ্টি৷ এই ধরনের আবহাওয়ায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে না৷’’

একই সঙ্গে সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘এই ধরনের আবহাওয়া না থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ সামলাতে পারত না রাজ্য সরকার৷ কারণ, মশা মারার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে যে সব কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে, পরিকাঠামোগত বিভিন্ন ধরনের খামতির জন্য সে সব ব্যর্থ হয়েছে৷ অথচ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত অন্য বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্য সচেতনতার খামতি রয়েছে বলে দোষারোপ করা হচ্ছে৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ ডাক্তার সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘ডেঙ্গুর মশা ভোর এবং সন্ধ্যার সময় কামড়ায়৷ অথচ, বিজ্ঞাপনে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি৷ রাজ্য সরকার এ ভাবে মিথ্যাচার করছে৷’’

Advertisement ---
---
-----