জেনে নিন ‘ইস্টার এগ’ জিনিসটা কি

‘ইস্টার’ শব্দটি এসেছে জার্মান প্যাগান ধর্মের দেবী ‘ইয়োস্ত্রে’ থেকে। তিনি ছিলেন নবজন্ম এবং উর্বরতার দেবী, ছোট খরগোশ এবং ডিম ছিল তার প্রতীক।

বাইবেলের নিয়ম অনুযায়ী, কালভেরি পর্বতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান যিশু। তাঁর মৃত্যুর ঠিক তিনদিন পর ছিল রবিবার, আর সেই পবিত্র দিনে পুনরুত্থান হয় যিশুর। মৃত্যু থেকে পুনরায় জীবিত হয়ে স্বর্গে ফিরে যান তিনি। যিশুখ্রিস্টের পুনরুত্থান কিংবা নবজন্মকে স্মরণ করার জন্য এই বিশেষ দিনটির নামকরণ করা হয়েছে দেবী ‘ইয়োস্ত্রে’র নাম অনুসারে।

ইস্টারের একটি বড় আকর্ষণ হল, ‘ইস্টার এগ’ বা ‘ইস্টারের ডিম’। ডিমকে ধরা হয় নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে, ঠিক যেমন করে নতুন জীবন পেয়েছেন যিশু। এদিকে ইস্টার এগের মাধ্যমে যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানকে প্রতীকী করা হয়ে থাকে।

খ্রিস্ট ধর্মালম্বীরা মনে করেন, পাখি যেমন ডিমের খোলস ছেড়ে পৃথিবীর আলোয় আসে, তেমনিভাবেই যিশুও পুনুরুত্থিত হয়েছিলেন। পুনরুত্থানের সেই দিনটিকে বলা হয় ইস্টার সানডে। আর ইস্টার সানডের অন্যতম অংশ ইস্টার এগ।

ডিম হল পুনর্জন্মের প্রতীক। ইস্টারের জন্য ডিমের রং যে লাল করা হয়, সেটা খ্রিস্টের রক্তের রূপক হিসেবে। রাশিয়াতে সমাধির উপর রাখা হত রক্তবর্ণ ‘ইস্টার এগ’ যা আসলে পুনরুত্থানের প্রতীক। আজকাল সচরাচর ডিমের আকারে চকলেট, কিংবা জেলি-বিন বা অন্য কোনও মিষ্টি ভিতরে রাখা প্লাস্টিকের ডিম ব্যবহার করা হয়৷

আবার কেউ কেউ এই সময় মুরগির ডিম কড়া সেদ্ধ করে রং করে থাকেন।সেদ্ধ করা মুরগির ডিম ছাড়াও এই সময় পাওয়া যায় চকলেট ডিম এবং প্লাস্টিকের ডিম, যেগুলোতে থাকে নানা ধরনের ক্যান্ডি। এই সময় বাড়িতে বা দোকানে সাজিয়ে রাখা হয় নকশা করা ডিমগুলো। ইস্টারের দিন বাড়ির বাচ্চারা সেই ডিম ভেঙে খায় এবং বিশ্বাস করে যিশু পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন।

----
-----