লখনউ: বাবরি ধ্বংসের বর্ষ পূর্তি। তাই যাতে কোন গণ্ডগোল না হয়, তার জন্য হায়দারাবাদ পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই কিছু কিছু এলাকা জুড়ে ফ্লাগ মার্চ করে নজরদারি চালিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এর তরফ থেকে জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তারক্ষী বেশি করে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এরমধ্যেই ৭ তারিখ পর্যন্ত শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে। সেন্ট্রাল পুলিশবাহিনী ও ফ্লাগ মার্চ এ অংশগ্রহন করে। প্রতিটি অঞ্চলে সম্প্রীতির বার্তা পাঠানো হয়েছে।

হায়দারাবাদ পুলিশ এর রিপোর্ট অনুযায়ী এইদিন আট এসিপি, ৩০ জন ইনস্পেক্টর ও ৭৫ সাব-ইনস্পেক্টর এই ফ্লাগ মার্চ এ অংশগ্রহন করেন। এই ফ্লাগ মার্চ এর মুল লক্ষ্যই ছিল উত্তেজনাপ্রবণ এলাকার সাধারন মানুষ যাতে গোলমাল না বাধায় তা নিয়ে সচেতন করা। প্রতেক চেক পোস্ট এ কড়া নজরদারির ব্যবস্তা করা হয়েছে। এই ৭ তারিখ এর মধ্যে কোনরকমের সভা বা মিছিল আয়োজন করা যাবে না, এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

আবার, বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে গেরুয়া সাজে সেজে উঠেছে অযোধ্যা। সবমিলিয়ে অযোধ্যায় গেরুয়া বাহিনী জিতেছে মোট ন’বার। স্বাধীনতার পর থেকেই এই এলাকাটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শক্ত ঘাঁটি রুপে পরিচিতি লাভ করেছে। শেষ নির্বাচনেও এখান থেকে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী বেদপ্রকাশ গুপ্তা। তাই বলাই বাহুল্য যে এবার তারা বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে।

কয়েকদিন ধরে খবরের শিরোনামে অযোধ্যা ইস্যু৷ সৌজন্যে আর্ট অফ লিভিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্কর৷ আদালতের বাইরে অযোধ্যা মামলার মীমাংসা করতে দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি৷ এদিকে গত মাসে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছিল, অযোধ্যাতে রাম মন্দির হলে তাদের কোন আপত্তি নেই৷ প্রসঙ্গত, ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় এই মসজিদটি তৈরি করেন বাবরের সেনাপতি মীর বাকী৷ সেখান থেকেই মসজিদের নাম হয় বাবরি৷

অন্যদিকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী দশম শতকে এই জায়গায় একটি রাম মন্দির ছিল৷ মন্দিরের জমিতে মসজিদ হওয়া নিয়েই অযোধ্যা বিবাদের সূত্রপাত৷ ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায় দেয়৷ রায়ে বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমিকে তিনটি অংশে ভাগ করা হবে৷ সেই তিনটির একটি জমি দেওয়া হবে হিন্দু মহাসভাকে৷ আরেক ভাগ পাবে নির্মোহী আখারা৷ শেষ ভাগটি পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড৷ গত মাসে সিয়া সেন্টাল ওয়াকফ বোর্ড একটি প্রস্তাব দেয়৷ তারা প্রস্তাব দিয়ে বলে অযোধ্যাতেই হোক রামমন্দির৷ মসজিদ হবে লখনউতে৷ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে৷

----
--