ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত

সুমন গুণ: সারা পৃথিবীতেই রাজনীতিপ্রবণ কবিতার একটি সবল ধারা আছে। কখনও সরাসরি, কখনও অন্য নানা প্রবণতাকে আশ্রয় করে সময় আর সমাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের কথা দায়িত্বের সঙ্গে জানিয়ে দেবার ঝোঁকে রচিত হয়েছে বহু উজ্জ্বল কবিতা। বাংলায় এই ঝোঁক প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল চল্লিশের দশকে, যখন দেশে-বিদেশে তীব্র আর উদ্ধত অনেকগুলি ঘটনার ধাক্কা মুহূর্মুহূ এসে পড়েছিল আমাদের মধ্যে। তার আগে বিষ্ণু দে প্রত্যক্ষভাবে আর তাঁর সতীর্থ কবিরা তুলনায় নিচু স্বরে, নিজেদের মতো করে চারপাশের ঝড়ের কথা ধরে রেখেছিলেন কবিতায়।

জীবনানন্দের ‘বেলা অবেলা কালবেলা’র কথা বিশেষভাবে মনে পড়বে। অন্ধ হলে যে প্রলয় বন্ধ থাকে না, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সেকথা আমাদের খরতরভাবে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে চল্লিশের দশকে এই আওয়াজ বাংলা কবিতার প্রধান ধরন হয়ে উঠল। যে সময়ে লেখালেখি শুরু করেছিলেন এই কবিরা, তার দহন থেকে আজও আমাদের ক্ষত তৈরি হয়। পুঁজ বেরোয়। দুর্গন্ধে ভরে ওঠে দেশ। সারা পৃথিবীতে অমানবিকতার উগ্রতা যেমন ছিল, পাশাপাশি তার সংঘবদ্ধ বিরোধিতার আন্তর্জাতিক এক জাগরণ শুরু হয়েছিল।

যে কবিরা সেই আত্মঘাতী সময়ের মোকাবিলা করেছেন সরাসরি, ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, নিজেদের লেখা প্রকাশ্যে বা পরোক্ষে ধরে রেখেছেন তাঁদের অভিজ্ঞতা, আমরা তাঁদের কাছে গভীরভাবে ঋণী, একথা আমার বারবার মনে হয়। সুকান্ত ভট্টাচার্য, সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়, অরুণ মিত্র সহ অনেকের লেখা প্রসঙ্গত আমাদের মনে পড়বে।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘না কি বলেন’ কবিতাটির কথা মনে করুন। এই কবিতায় কবির কোনও মন্তব্য নেই। বক্তা যিনি, তাঁর ভাষ্যে গোটা কবিতাটি কথা বলেছে। এমন কবিতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আরও আছে। যেমন ‘রসুই’, ‘আরে ছো’ ইত্যাদি। কোথাও কবি একটু এগিয়ে, কোথাও দূর থেকেই শুনছেন যেন; ব্যঙ্গে, মন খারাপে, কৌতুকে, কখনও উল্লাসে সাড়া দিচ্ছেন।

উল্লাস আছে এই কবিতাতেও। সম্পদের উল্লাস, বিত্তের উল্লাস, উদ্বৃত্ত প্রাচুর্যের উল্লাস। ১৯৭৯ সালের ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’ বইয়ের এই কবিতা লেখার সময় এই উল্লাসে যে-অশ্লীলতা, তা আজকের তুলনায় বেশি লক্ষণীয় ছিল এইজন্য যে বিত্তের, সম্পদের কুক্ষিগত অধিকারে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় তখনও এত খোলামেলাভাবে শুরু হয়নি। আজ এই কবিতার স্বগত উক্তি-প্রত্যুক্তিতে যে-দ্বিধা ও জড়তা রয়েছে তা একটু অতিরিক্ত মনে হলেও হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ি আর গাড়ি কেনার অধুনা-সুলভ সিদ্ধান্তটি নিতে যে এই কবিতার শেষ লাইন পর্যন্ত আসতে হল, তাতেই বোঝা যায় প্রগতিশীল আন্দোলনের মসনদপ্রাপ্তির পরেও ব্যসনসর্বস্ব বেঁচে-থাকার ফণা ততটা লকলক করে ওঠেনি, তখনও।

তাই সেই সময়ের আগে-পরে লেখা নানা কবিতায় দেখা যায় সুখী গৃহকোণের থাবা-বাড়ানো মোহের বিরুদ্ধে কথা; চালচিঁড়ে, হুঁকোতামাক আর মাছ ধরার জাল নিয়ে জল সইতে যাবার তাগিদ, উড়ে-যাওয়া আলোর নীল পাখির জন্য বিষাদ, শূন্য খাঁচার হাহাকার। কবি দেখছেন উঁচুমহলে কল্কে পাবার জন্য বোবা-কালা হয়ে থাকছে সবাই, গলায় বগলস দেওয়া লোম-ওলা প্রভুভক্ত কুকুর বাড়ছে রাস্তায়, এখন যুদ্ধপরান্মুখ স্বয়ং কৃষ্ণ, দুর্যোধনের সশব্দ উল্লাস চারদিকে। বিষাদময় ব্যঙ্গে জ্বলে ওঠে তাঁর কবিতা :

‘উঁচু উঁচু পেল্লায় বাড়ি/আহা-হা, তা/ উঠবেই তো!/আমাদেরও ওঠার পালা
এল এবার; / যা করবার/ তাড়াতাড়ি!/ তাড়াতাড়ি!’

আর এর পরের কথায় কবিতাটি লাফ দিল একরোখা কবিতার চিরকালীন পংক্তিতে, দিগন্তের দিকে ফলা উঁচু করে থাকা ভঙ্গিতে, কৌতুকের স্বরেই জানিয়ে দিল :‘যার নেই চাল, যার নেই চুলো /তাদের চোখে /বাড়িগুলো /তা একটু ফুটবেই তো!’

এটা সারা বিশ্বের প্রতিবাদী কবিতার একটি সশস্ত্র ধরন, বহমান অসহায়তার কথা বলাই এখানে যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান না জানালে কথা শেষ হয় না। কিন্তু সুভাষ মুখোপাধ্যায়, মায়াকভস্কির মতোই, আগুনে কবিতার ভেতরেও স্বরান্তর রাখতেন। প্যালেস্টাইনের কবি মাহমুদ দারবিশ লিখেছিলেন একেবারে সরাসরি :‘মানুষকে ঘৃণা করি না আমি,অন্যেরবিত্তকেড়ে নেবার ইচ্ছেও নেই আমার, / কিন্তু, মনে রাখুন, খিদে পেলে আমার ওপর চেপে বসে আছে যে, আমি /তার মাংসই তো খাব’

যদিও, মায়াকভস্কি বা নেরুদার লেনিন বা স্ট্যালিনকে নিয়ে লেখা কবিতার মতোই সুভাষ মুখোপাধ্যায়েরও একমুখী কিছু কবিতা আছে, কিন্তু সাধারণভাবে এই তিনজন কবিই স্মরণীয় হয়ে আছেন সাদা কথার সিঁড়ি বানিয়ে পাঠককে দিগন্তের দিকে পৌঁছে দেবার ক্ষমতার জন্য। মনে পড়ছে মারিও ভার্গাস লোসা এক সাক্ষাৎকারে নেরুদার উদ্দামতা নিয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়েও তাঁর স্ট্যালিনপ্রীতিমুখর কবিতা নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন।

‘না কি বলেন’ কবিতায় এই দ্বিতীয় পরতটি নেই, পুরো কবিতাটিই সদ্যোত্থিত এক ভোগী মানুষের অঙ্ক কষার কৌশলে লেখা। একটা ব্যাপার খেয়াল করলে বোঝা যাবে, মানবতাবাদী কবিতার অনেকগুলো প্রবণতার একটা হলো নাটকীয়তা। নাটকীয় বিন্যাসে কথার নানা মোচড় রাখা যায়, ভেতরে ভেতরে অনেকগুলো স্তর খেলানো যায়, আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, কথাবার্তার স্বাভাবিক উচাটনকে ব্যবহার করা যায়। এই কবিতায় একজন মানুষেরই দ্বিধাজড়িত লালসার অন্ধকারময় অনিশ্চয়তাকে শব্দে শব্দে ধরে রাখা হয়েছে। ‘ডায়মন্ডহারবার’ শব্দেই আছে এক অবৈধ উপভোগের সফেন ইশারা। মুশকিল হল, গাড়ি কিনলেই তো মিটছে না, তেলের হিসেবটাও করতে হয়। প্রতিরোধহীন উপার্জনের সিঁড়িতে তো সবে পা পড়েছে, সবদিক না ভেবে উঠতে গেলে যে পিছলে যেতে হবে, সে ভাবনাটাও আছে। তাই বিকল্প ভাবতে হচ্ছে বাড়ির কথা। বাড়ি ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকায় গাড়ির খরচ তুলে আনার মধ্যে যে অসম্পূর্ণ বিত্তের দৈন্য প্রকাশ পেল, তার দিকে আলো ফেলাও এই কবিতার আরেকটি লক্ষ্য। তার পরেই আবার, উদ্বাহু হয়ে উঠল মদিরাময় বাসনার শিখা, বাড়ি গাড়ি দুটোই চাই, এই কামনায় থিতু হল মন।

মনোমোহিনী অর্থনীতির পাকে আমরা, ভারতবর্ষের মানুষ এখন দ্বিধাহীনভাবে জড়ানো। এখন আর গাড়ি বাড়ি করার বাসনা নিয়ে কটাক্ষ দূরের কথা, কথাই হয় না। কিন্তু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নব্বই সালের আশেপাশে প্রকাশিত বইগুলোর কবিতায় এই লতিয়ে ওঠা ভোগচেতনার দিকে তাকিয়ে সবিস্ময় আক্ষেপ আছে, কৌতুকের ছোবল আছে, বিপন্নতা আছে, বিপর্যয়ের ইশারা বোঝানো আছে। ‘ধর্মের কল’ কবিতায় সরাসরি বলেছেন :‘সময়টা সুবিধের নয় /কিছু না ক’রে /যে পারে সেই হাতিয়ে নিচ্ছে /খোলা মঞ্চে /চোখের পর্দাটুকুও না ফেলে /বহুরূপীরা /ঘড়ি ঘড়ি নিজেদের রঙ বদলাচ্ছে /কার হাত, কিসের হাততালি /কিসেরই বা জয়জোকার
মুখ দেখে কিছুই ঠাহর হচ্ছে না’।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার এই নিরাভরন ধরনটিই তো বিলাসপ্রবণ, কূট, সন্দিগ্ধ বাজারী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিপুণ প্রতিবাদ। সারা জীবন এই সাধাসিধে কিন্তু আত্মসচেতন কলম অক্ষত রেখেছিলেন তিনি। দেখেছেন

‘বাড়ির পর বাড়ি রে ভাই /গাড়ির পর গাড়ি /আপনজনে পরের ধনে /চালাচ্ছে পোদ্দারি’।

মুখের ভাষায় নানা রঙ মিশিয়ে ইশারা বদল করেছেন তিনি অনেকবার। অনেক শব্দকে আলাদাভাবে সূচ্যগ্র করে লক্ষ্যভেদী করে তুলেছেন। ‘ছিল নাকো কপর্দকও, তেমন লোকও/লাল হয়ে আজ হচ্ছে আমির’ যখন বলেন তিনি, তখন ‘লাল’ শব্দটির দ্বিত্ব অলক্ষ্য থাকে না। ‘কেডা রে’ কবিতায় আবার ফিরে এসেছে সেই আক্ষেপ :‘বাড়ি। গাড়ি। অঢেল টাকা। /প্রাচুর্য আজ দিয়েছে ঢাকা /সাবেকের সেই দৈন্য’।

‘দৈন্য’ শব্দে যে দীনতা নেই, সাবেক আদর্শবোধের সমাধির দিকেই যে আঙুল তুলছেন কবি, তা না বললেও চলে। কমরেডের সঙ্গে জেলখানার গল্প বলার স্মৃতি উশকে ওঠে পাঠকেরও, ভাঙা গাল, একেবারে রোগা টিঙটিঙে খাটো ধুতি, মার্কামারা খাকির হাফশার্টে সেই কমরেড মনে পড়িয়ে দেন পুরনো দিনের কথা। একই জেলে থাকা, সারা সিঁড়ি ব্যারিকেড, বারান্দায় জল ঢেলে রাখা টিয়ার গ্যাসের জন্য, সারা রাত ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি — সমারোহময় দিনগুলি মনে পড়ে। মনে পড়ে প্রভাত-মুকুল-সুমথকে। কিন্তু আজ সবাই নিজেদের জালে বন্দী, নিজেদেরই তৈরি করা জেলে। আজ রেলিঙের আগুন-রঙের শাড়িগুলো পাট ক’রে আলনায় তোলা। রাস্তায় মাঞ্জা দেওয়া সব সুতোই লাটাইয়ে গোটানো।

‘না কি বলেন’ কবিতায় আত্মসর্বস্ব আয়োজনের যে উগ্রতা, তার সঙ্গে সারা রাস্তা ধৈর্য ধরে মড়া টপকে টপকে হাঁটার স্বাচ্ছন্দ্যের মিল আছে। দুটোই আমাদের সময়ের পরাস্ত সহমর্মিতার কথা বলছে। বইতে পা লেগে গেলে আগে আমরা কপালে হাত ছোঁয়াতাম, গায়ে পা ঠেকলেও এখন আমরা প্রণাম করি না। এমন কাউকেই আমরা দেখছি না, যার সামনে হাতজোড় করে দাঁড়াতে পারি।

অথচ একটা সময় তো ছিল, যখন মনে হত, ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথেও পাথরে পা ডুবিয়ে, কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসত চিরিহরিৎ গাছ। সারাটা উঠোন জুড়ে অন্ধকার নাচাতে নাচাতে ঘরনি উঠোনে উঠে আসত। পেছনে ফিরে তাকালে এখনও দেখা যায় সিংহের কালো কেশর ফুলিয়ে গর্জমান সমুদ্র, দেয়ালে গুলির দাগ, ভাঙা স্লেট, ছেঁড়া জুতোয় ছত্রাকার রাস্তা, পায়ে পায়ে ছিটিয়ে যাওয়া রক্ত। সেই মুখর সময়ে মুক্তির বহুবর্ণ বাসনার নীচে যৌবনকে পণ ধরেছিল জীবন।

কিন্তু ‘না কি বলেন’ কবিতায় বলা লোভ এখন সর্বগ্রাসী। এই শতাব্দীর সূচনায় ছাপা ‘ছড়ানো ঘুঁটি’ বইয়ের কবিতায় কবিতায় ছড়ানো গুলজার এই মজলিশি সময়ের চিহ্ন। কবির চোখের সামনে আমাদের ভালোবাসার শতাব্দী মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আকাশে উৎক্ষিপ্ত নিশান এখন সাপের ফনার মতো হিস হিস শব্দ করে উড়ছে। এই নিশানকে কখনও মনে হচ্ছে যেন ফাঁসি যাওয়ার ভঙ্গিতে ফাঁকা মাঠে অসহায় একা এক ঝোলানো পতাকা। দলিত লুন্ঠিত স্বাধীনতা। শহিদেরা বেদিতে পুতুল হয়ে বসে আছে। ‘কানামাছি’ কবিতায় একটু ঘুরিয়ে বলছেন :‘সময়টাকে পেয়েছে এখন /পেঁচোয় /এক-পা যেই এগিয়ে যায় /অমনি দু-পা
পেছোয়’। ‘না কি বলেন’ কবিতায় বলা গাড়ি বাড়ি করার বাসনা বিদ্ধ হয়েছে দু শতক পরের এই বইয়েও। এবার একেবারে সরাসরি :‘হাতিয়ে জমি, বানিয়ে বাড়ি /করছে টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি /কতক সাদা কতক কালো’।

অন্ধকার এই সময়ে , তবুও, সুভাষ মুখোপাধ্যায় সামনের দিকে তাকানোর নাছোড় প্রবণতা এড়াতে পারেননি। সারা জীবন বিশ্বাস করেছেন অশুভ যা-কিছু তার শেষ হবে। মানুষ সমবেতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই সময়কে, সমাজকে। সেই ‘পদাতিক’ থেকেই তাঁর ‘মিলিত অগ্রগতি’তে আস্থা, জানিয়েছিলেন, ‘একাকী চড়তে চাই না এরোপ্লেনে’। অগ্নিবর্ণ সংগ্রামের পথে দ্বিতীয় বসন্তের প্রতীক্ষা করেছেন শুরু থেকেই। জীবনের শেষ পর্বেও, মাছের গন্ধে ছোঁক-ছোঁক-করা বেড়ালভর্তি এই সময়েও ধরে রেখেছেন এই বিশ্বাস:‘রাত্রিশেষে জমে উঠবে /এ মাটির কোল-আলো-করে
নতুন উৎসব’। অথবা, ‘একটা শুধু উলটো প্যাঁচেই হবে /দিনের পালাবদল’।

অপূরণীয় এই বিশ্বাসের দাপটে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সারা জীবনের কবিতা আলোকিত।

---- -----