আজ মন খারাপের দশমী, চলছে বিসর্জনের তোড়জোড়

কলকাতা: আকাশে বাতাসে আজ যেন বিষন্নতার সুর বেজে উঠেছে৷ মা দুর্গার যে আজ শ্বশুর বাড়ি ফেরার পালা৷ মায়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের সব মানুষেরই তাই আজ মুখ ভার৷ ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’৷ মা দুর্গাকে যে আজ ফিরতেই হবে৷ নইলে স্বামী শিব-শম্ভু রুদ্র মূর্তী ধারণ করবেন যে৷ ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এই চারটে দিন বাপের বাড়িতে সক্কলকে নিয়ে বেশ আনন্দেই কটেছে মা দুর্গার৷ আর কাটবে নাই বা কেন! বাপের বাড়ি বলে কথা৷

আর ঘরের মেয়ে দুর্গাকে ঘিরে শহরবাসীও মেতে উঠেছিল আনন্দে৷ কিন্তু অবশেষে চারদিন পর আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত৷ নবমী নিশি শেষে আজ দশমী৷ ঘোড়ায় চড়ে কৈলাসে রওনা দেবেন মা৷ প্রথা মেনে তাই বনেদি বাড়ি থেকে বারোয়ারিগুলিতে চলছে বরণের পালা৷

আসছে বছর আবার হবে৷ এমন ভাবনায় ভর করেই শহরবাসী উমাকে বিদায় জানানোর জন্য প্রস্তুত৷ কিছুটা সময় মন খারাপকে দূরে সরিয়ে তাই শেষ লগ্নের আনন্দে মেতেছে শহরবাসী৷ শোভাবাজার রাজবাড়ি থেকে বাগবাজার সর্বজনীন, দক্ষিণের সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বাড়ি সবত্রই চলছে বরণের পালা৷ পানপাতা সহযোগে চলছে উমার বরণ৷ চলছে উমাকে মিষ্টি খাওয়ানোর পালা৷ বরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের মঙ্গলকামনায় লক্ষ্মীর ঝাঁপি দুর্গার পায়ে ছুঁয়ে নিচ্ছেন বউমারা৷ শেষ লগ্নে যে যার মত করে মায়ের থেকে আশীর্বাদ বাবদ মনসকামনা করে নিচ্ছেন৷

আর বরণের পালা শেষে হতেই বিবাহিতরা মেতে উঠেছেন সিঁদুর খেলায়৷ একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করে চলছে সৌহার্দ্য বিনিময়৷ শোভাবাজার রাজবাড়ির সদস্যরা ইতিমধ্যেই মেতেছেন সিঁদুর খেলায়৷ বাদ যায়নি বাগবাজার সর্বজনীন৷ উত্তরের এই দুটি পুজোর সিঁদুর খেলায় শুধুমাত্র পাড়ার বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বাইরেরে থেকেও বহু লোকজন সামিল হন এখানকার সিঁদুর খেলায়৷

----
-----