“নেতাজির মৃত্যু-রিপোর্ট মার্কিন চাপে তৈরি করেছিল জাপান”

সৌমেন শীল, কলকাতা: সাত দশক ধরে বাঙালি সহ সমগ্র দেশবাসী চেষ্টা করে চলেছেন নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান করতে। স্বাধীনতার আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক জল্পনা। রহস্যের কিনারা করতে গঠন করা হয়েছে একাধিক কমিশন। তবুও মেলেনি কোনও নিশ্চিত সমাধান। বৃহস্পতিবার নেতাজি সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। জাপান সরকারের তরফে থেকে দেওয়া সেই রিপোর্ট মান্যতা দিয়েছে ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনায় তত্ত্বকে। যদিও সেই রিপোর্টকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতাজির অনুগামী ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্যরা। জাপান সরকারের দেওয়া নেতাজির মৃত্যু সম্পর্কিত আমেরিকার চাপে তৈরি বলে জানিয়েছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জয়ন্ত রায়।

‘‘বিমান দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু’’

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি অর্থাৎ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের জন্মদিনের দিন থেকে নেতাজি সম্পর্কিত ফাইল প্রকাশ করে চলেছে কেন্দ্র। সেই সমস্ত ফাইল থেকে উঠে আসছে নানাবিধ তথ্য। একইসঙ্গে একাধিক তদন্ত কমিশনের দেওয়া রিপোর্টে তৈরি হয়েছে জল্পনা বেড়েছে অসঙ্গতি। এদিনের প্রকাশিত ফাইলের রিপোর্ট অনুসারে, ‘১৯৪৫ সালের ১৮ অগাষ্ট বিমান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলেন নেতাজি। ওই দিনেই সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় সেনা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। চার দিন পর ২২ তারিখে ওই শহরের পুরসভার শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নেতাজির’। ১৯৫৬ সালে জাপান সরকার তৈরি করেছিল সেই রিপোর্ট। পরে তা টোকিওতে ভারতীয় দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেছেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ওয়াশিংটনের সাহায্য নিয়েছিল টোকিও। সেই আমেরিকার চাপেই জাপান সরকার এই ‘ভুয়ো’ রিপোর্ট তৈরি করেছিল।” তাঁর দাবি, “১৯৪৫ সালের ১৮ অগাষ্ট জাপানের তাইপেই বিমানবন্দরে কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর তাইপেই বিমানবন্দরে একটি বমারু বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। তবে সেখানে কোনও সৈনিক ছিলেন না।

বিমান দুর্ঘটনার পরেও জীবিত নেতাজি গ্রেফতার ওমক্সে!

ajay-ray
জয়ন্ত রায়
Advertisement
---