”চুমু পেলে, চুমু খাবো, যখন যেখানে ইচ্ছে৷ তোর বাপের কী?”

কলকাতা : গত দুদিন ধরে কলকাতা শহর উত্তাল একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে৷ সোমবার রাতে মেট্রো রেলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল এক যুগল। ওই ট্রেনে থাকা একদল সহযাত্রীদের দাবি ছিল ওই যুবক-যুবতীর চালচলন সমাজের অশ্লীল ছিল।

প্রকাশ্যে অশ্লীল আচরণ করার অপরাধেই প্রথমে প্রতিবাদ শুরু করেন কিছু যাত্রী। এরপরই তাঁদের টেনে শুরু হয় প্রহার। বেধড়ক মারের চোটে গুরুতর জখম হয় যুবক। প্রেমিককে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় যুবতীকেও। সমগ্র ঘটনার ছবি এবং ভিডিও মোবাইলে তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় অন্যান্য সহযাত্রীরা।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝড় উঠেছে প্রতিবাদের। মেট্রো রেলে যুগল হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামল একদল যুবক-যুবতী। দমদম মেট্রো স্টেশন চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল যুবক-যুবতী। তাদের দাবি, “যাঁরা ছেলেটি ও মেয়েটিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে, তাঁদের নামে এফআইআর দায়ের হোক।” এবার মুখ খুললেন তারকারাও৷ টলিউড সেলেব্রিটি, সঙ্গীতশিল্পী নিন্দা করেছেন গোটা ঘটনার৷

সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা তীব্র নিন্দা করে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “বহু বছর আগে আমি একটি গানে বলেছিলাম, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এ দেশে অপরাধ, ঘুষ খাওয়া নয়৷ অদ্ভুতভাবে সেই এখন আমাদের দেশে প্রযোজ্য৷ এখানে ইউ কান্ট কিস ইন পাবলিক প্লেস বাট ইউ ক্যান পিস ইন পাবলিক প্লেস৷ খুবই লজ্জাজনক একটি ঘটনা৷ ছেলে-মেয়ে দুটি প্রহৃত হল কয়েকজন বুড়োর দ্বারা, যারা যৌন ইর্ষায় আক্রান্ত৷ এটা রীতিমত অপরাধ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত৷ আর যারা যারা ওই মেয়েটিকে মেরেছে তারা মনে মনে আসলে মেয়েটিকে রেপ করেছে৷ যারা মেয়েটির গায়ে হাত তুলেছে তারা প্রত্যেককে রেপিস্ট৷ এক ধরণের তালিবানি হিসেব শুরু হয়েছে৷ পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক৷ কো নির্ধারণ করবে কোনটা শ্লীল কোনটা অশ্লীল?”

টলিউড পরিচালক বিরসা দাসগুপ্ত নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে একটি কবিতা পোস্ট করে এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন৷ বিরসা ছাড়াও তাসলিমা নাসরিন তাঁর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ট্যুইটারে লেখেন ,”হিংসা, ঘৃণার অনুমতি রয়েছে কিন্তু ভালোবাসার নেই৷” ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ ছবির আদিত্য সেনগুপ্ত তাঁর বান্ধবীর অসংখ্য মানুষের সঙ্গে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে উপস্থিত থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালেন৷

----
-----