পাঁচ বছরের শিশুর শরীরেও ইনজেক্ট করে দেওয়া হত যৌন হরমোন

হায়দরাবাদ: নারী পাচার চক্রের হাত থেকে ১১ জন মেয়েকে উদ্ধার করল তেলেঙ্গানা পুলিশ। তেলেঙ্গানার ইয়াদ্রি ভঙ্গির জেলার ইয়াদিগিরিয়াত্রার এক বিখ্যাত মন্দির থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে এক পাঁচ বছরের শিশুও রয়েছে। অভিযোগ, দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের শরীরে যৌন হরমোন ইনজেক্ট করে দিত, যাতে তাদের কম বয়স থেকেই দেহ ব্যবসায় নামানো যায়।

মঙ্গলবার, বিকেলে রাখদার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভগত সাংবাদিকদের জানান গণেশ নগর এলাকার ৬ টি যৌনপল্লিতে হানা দিয়ে যৌন ব্যবসায় অভিযুক্ত দোমারি সম্প্রদায়ের ৮ জনকে গ্রেফতার করেন তাঁরা। ভগত জানান একজন স্থানীয় ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তল্লাশি চালায় পুলিশ। ওই ব্যক্তি এলাকার একটি বেশ্যালয় থেকে এক বাচ্চা মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপরই ইয়াদিগিরিয়াত্রার পুলিশ সেখানে স্পেশাল ‘সি’ টিম নিয়ে কামসানি কল্যাণী নাম এক মহিলার বাড়িতে হানা দেয় ও দুই শিশুকে উদ্ধার করে।

দুই শিশুর মধ্যে একজন কল্যাণীর নিজের মেয়ে এবং অন্যজনকে সেক্স ট্র্যাফিকিং-এর মাধ্যমে আনা হয়েছে, এমনটাই জানতে পারে পুলিশ। কল্যাণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও পাঁচটি বাড়িতে হানা দেয় ও ১১ জন মেয়েকে উদ্ধার করে। যার মধ্যে চার জনের বয়স ৭ বছর।

যৌনতায় সক্ষম করার জন্য ডাঃ স্বামী শিশুগুলিকে যৌন হরমোন ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতেন, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। ডাঃ স্বামী ওই ইঞ্জেকশনের প্রত্যেকটির জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দাবি করতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শিশুগুলিকে শারীরিক নির্যাতন করা হত এবং তারা ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে খেতেও দেওয়া হত না।

কমিশনার জানান, ‘তারা এভাবে চার বছর ধরে বন্দি ও দেহব্যাবসায় যুক্ত ছিল। উপযুক্ত তদন্তের পর বেশ্যালয়গুলি বন্ধের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযুক্তরা হল কামসানি কল্যাণী (২৫) , কামসানি অনিথা (৩০), কামসানি সুশীলা (৬০) , কামসানি নরসিমা (২৩), কামসানি শ্রুতি (২৫), কামসানি স্রিথা (৫০) , কামসানি ভানী (২৮) , কামসানি ভিমসা (২৩) । প্রতেকেই ইয়াদ্রি ভঙ্গির জেলার বাসিন্দা।

কমিশনার আরও জানান ‘ কৃষ্ণা শঙ্কর ও কামসানি ইয়াদ্গিরি নামে দুই এজেন্টের মাধ্যমে শিশুদের হদিশ পেত ওই সেক্স ট্র্যাফিকাররা। প্রত্যেক শিশুর জন্য দু’লক্ষ করে টাকা দাবি করা হত। বেশ কয়েকজনকে রেলওয়ে- বাস স্টেশন সহ অন্যান্য জায়গা থেকে তুলে আনা হয়। ভারতীয় সংবিধানের ৩৬৬(এ),৩৭১(১)(৫), ৩৭৬, ৩৭২,১১৪,৩৭৩,১২০(বি) ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ , অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনেও মামলা রজু করা হয়েছে। কমিশনার ভাগবত জানান , উদ্ধার হওয়া মেয়েগুলিকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। ২০১৬-র এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে আট হাজারেরও বেশি মানুষ পাচার হওয়ার মামলা দায়ের হয়েছে । এর মধ্যে ২৩,০০০ হাজার জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। যার মধ্যে ১৮২ জন বিদেশি। ১৫,৩৭৯ জনের মধ্যে ৯,০৩৮ জনের বয়স ১৮ বছরের নীচে এবং ভারতে প্রতিদিন ৬৩ জন মানব পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হন, এনসিআরবিসি ব্যুরো সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement
----
-----