তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পর্যটন শিল্পের বিকাশে অভিনব উদ্যোগ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের। এবার ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুর ঘরানার সূর মূর্ছনা আর লাল বাঁধের জলে ভাসমান নৌকা মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে। মল্লরাজাদের এক সময়ের রাজধানী, মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা এবার থেকে নৌকাবিহারেরও সুযোগ পাবেন।

নৌকার পাটাতনে বসেই দূর থেকে মন্দির নগরীর বেশ কয়েকটি টেরাকোটা শিল্প সমৃদ্ধ মন্দির দেখার সুযোগ যেমন পাবেন৷ তেমনি বিষ্ণুপুর ঘরানার সূরমূর্ছণা ভরিয়ে দেবে লাল বাঁধে এলাকা। আর সেই নৌকাতেই সন্ধ্যে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত লন্ঠন। পর্যটন মরশুমের শুরুতেই শুক্রবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের লাল বাঁধের জলে সুসজ্জিত নৌযাত্রার সূচনা হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল সহ অন্যান্য মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

এখানে আসা পর্যটকদের কথা ভেবে আগেই লাল বাঁধের পাড় পরিষ্কার করেছে মহকুমা প্রশাসন। তৈরি হয়েছে জেটি। লাল বাঁধের জলে এখন থেকে অপেক্ষমাণ ডিজেল ইঞ্জিন চালিত নৌকা। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত একটি নৌকা থাকছে। যে নৌকা বিষ্ণুপুরের শিল্পীরাই তৈরি করেছেন। অন্যটি খুব শীঘ্রই শহর কলকাতা থেকে আসছে। ওই নৌকাতে প্রায় তিরিশ জন বসার সুযোগ পাবেন। খরচ পড়বে এক ঘণ্টায় মাথা পিছু একশো টাকা। একই সঙ্গে নৌকায় যাত্রী নিরাপত্তায় কোন ধরণের ফাঁক রাখতে রাজি নয় প্রশাসন। লাল বাঁধের জলে সর্বক্ষণ স্পিড বোট নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রশিক্ষিত কর্মীরা সদা সতর্ক থাকবেন। সব মিলিয়ে বলাই যায়, আসন্ন বিষ্ণুপুর মেলার আগে এখানে আসা পর্যটকদের বড়সড় উপহার দিল বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন।

অভিনব এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক সকলেই। মহকুমা শাসক মানস মণ্ডলের এই ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলেই। তাদের মতে, সারা দিন মন্দির নগরীর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানোর শেষে লাল বাঁধের জলে ভাসমান নৌকায় বসে ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নেওয়া যেতেই পারে। এখানে আসা সব শ্রেণীর পর্যটকদের কাছেই এটা অনেক বড় পাওনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল জানান, লাল বাঁধকে কেন্দ্র করে কিছু করার অনেক দিন ধরেই ভাবনা ছিল। এবার সেই কাজের সফল রুপায়ন সম্ভব হল। এখানে নৌকা বিহারের পাশাপাশি বিষ্ণুপুর ঘরানার শিল্পীদের গান শোনার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি লাল বাঁধের পাড়ে থাকছে খাবারের দোকান। সবমিলিয়ে পর্যটকদের সব রকমের স্বাচ্ছন্দ্য দিতেই মহকুমা প্রশাসন প্রস্তুত বলে তিনি জানান।