তথ্যপ্রযুক্তিতে লক্ষাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের আগেই ইউনিয়ন খোলার তোড়জোড়

বিজয় রায়, কলকাতা: আগামী এক বছরে দু’লক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ছাঁটাইয়ের আশঙ্কার পরেই রাজ্যে নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন চালু করার পরিকল্পনা করছে বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি৷সম্প্রতি হান্টার্স ইন্ডিয়া নামে অন্যতম বৃহৎ কনসালটেন্সি ফার্ম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে৷ তাদের দাবি, যে হারে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে আগামী এক বছরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত বিপুল কর্মী কাজ হারাবেন৷এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় কাজ হারাতে চলেছেন ইঞ্জিনিয়রারা৷এই আশঙ্কা প্রকাশের পরেই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন চালুর তোরজোড় শুরু করেছে বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি৷

তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করে ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানি৷ ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বছরে ১.৭৫ হাজার থেকে প্রায় ২ লক্ষ কর্মীর কাজ হারানোর আশঙ্কা করে হান্টার্স ইন্ডিয়া৷ এখন দেশের এই অন্যতম বৃহৎ কনসালটেন্সি ফার্মের আশঙ্কা যদি সত্যি হয় তাহলে আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মীদের পেশায় কালো মেঘ ঘনিয়ে আসবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই৷আর এই সুযোগেই আইটি সেক্টরগুলিতে এবার ইউনিয়ন খোলার তোরজোড় শুরু করতে চলেছে বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি৷এই বিষয়ে সর্বভারতীয় সিটু সম্পাদক প্রশান্ত নন্দী মজুমদার জানান, সকল বাম ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গেই কথা বার্তা চলছে৷অনেকদিন ধরেই তথ্যপ্রযুক্তিতে ইউনিয়ন খোলার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে৷এখন পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউনিয়ন চালু করতে হবে৷পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এব্যাপারে তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীরাই এখন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে৷

তবে শুধু বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলিই নয়৷পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি দক্ষিণপন্থী দলের ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে বলে জানান সিটু নেতা প্রশান্ত নন্দী মজুমদার৷২০০৪ নাগাদ রাজ্যে বাম জমানয় তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন খোলার চেষ্টা করেছিল ট্রেড ইউনিয়নগুলি৷তবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজেই তার বিরুদ্ধে ছিলেন৷অনেকেই বলেন মূলত তাঁর আপত্তিতেই সেই সময় ট্রেড ইউনিয়নগুলি সংগঠন চালাতে পারেনি৷এমনকী সিআইটিইউকেও বাধা দেওয়া হয়৷তখন আড়ালে-আবডালে এবিষয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও খোলাখুলি ভাবে সিটু নেতাদের তেমন কিছু বলতে শোনা যায়নি৷যদিও এপ্রসঙ্গে প্রশান্তবাবুর সাফাই, তখন তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীদের একটা বড় অংশের আপত্তির ফলে ইউনিয়ন চালু করা সম্ভব হয়নি৷

- Advertisement -

ম্যাকনিসের সমীক্ষা অনুযায়ী যে হারে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় রদবদল হচ্ছে তাতে তাল মেলাতে পারছেন না বহু কর্মী৷বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে সেই তাল ধরে রাখা দিনের পর দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে৷ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ‘অকেজো’ হয়ে পড়বেন তথ্যপ্রযুক্তি পেশার সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়রদের একটা বড় অংশ৷তবে এই কর্মী ছাঁটাইয়ের কোপ যে শুধু কলকাতায় পড়বে তেমনটা মোটেই নয়৷দেশের সব শহরেই এর প্রভাব পড়বে৷সেকারণেই কলকাতা ছাড়া বেঙ্গালুরুতেও ইউনিয়ন খোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান সিটু নেতা প্রশান্ত নন্দী মজুমদার৷এছাড়া মহারাষ্ট্রের ট্রেডইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে কথা বার্তা চলছে বলেও জানান তিনি৷

Advertisement ---
---
-----