স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। হ্যাঁ বিশ্বাস থেকেই পুজোর আয়োজন গ্রামবাসীদের। তবে এই পুজো ট্রেন পুজো। রেল লাইন পারাপার করতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় যাতে নিরীহ গ্রামবাসীদের প্রাণহানি না হয়৷ সেই জন্যই শনিবার এই ট্রেন পুজোর আয়োজন করেছিল বারাসত কদম্বগাছি অঞ্চলের গ্রামবাসীরা।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসত – হাসনাবাদ শাখার কদম্বগাছিতে প্রতি বছরের মত এবারও গ্রামবাসীরা আয়োজন করেছে রেল লাইন ও ট্রেন পুজোর। এই বছর অষ্টম বর্ষে পড়ল এই অভিনব ট্রেন ও রেল লাইনের বিশেষ পুজো। সকাল ১০ টা নাগাদ কদম্বগাছি রেল স্টেশন লাগোয়া প্রায় পাঁচ ছয়টি গ্রামের মানুষ জড়ো হন কদম্বগাছি রেল স্টেশন চত্ত্বরে।

লাল শালু কাপড় দেখিয়ে গ্রামের মহিলারা ট্রেন দাঁড় করিয়ে শুরু করেন পূজা পার্বনের কাজ। রীতিমত দুধ গঙ্গার জল দিয়ে রেল লাইন ও ট্রেনের প্রথম ও শেষ কামড়ার কাউ ক্যাচার দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেন৷ তারপর তাতে চন্দন ও সিন্দুরের টিপ পরিয়ে দেওয়া হয়। ফুলের মালা ও কলাগাছ লাগিয়ে ধূপ দ্বীপ জ্বেলে, ফল প্রসাদ সহকারে ফুলবেলপাতা দিয়ে পুজো করে নারকেল ফাটিয়ে তার জল দিয়ে ট্রেনের চাকায় ছিটানো হয়।

এরপর শঙ্খধ্বনি দিয়ে ফের যাত্রা শুরু করা হয় ট্রেনের। পুজোর শেষে ট্রেনের চালক থেকে শুরু করে যাত্রীদের মধ্যে গ্রামবাসীরা ফল প্রসাদ বিতরণ করেন। বহু বছর ধরে এই কদম্বগাছি রেল স্টেশন লাগোয়া পাঁচ ছয়টি গ্রামের মানুষের রেললাইন পারাপার করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ট্রেনের ধাক্কায়। তবে বছর আটেক আগে কদম্বগাছি রেল স্টেশন চত্ত্বরে রেল লাইন পারাপার করার সময় এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন।

সেই থেকেই শুরু হয় ট্রেনের পুজো। প্রথম অবস্থায় ওই যুবকের মা ট্রেন পুজোর সূচনা করলেও আজ তা গ্রামীণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় তাঁর পরিবারের বা গ্রামের কেউ যাতে আর প্রাণ না হারায় তার জন্য গ্রামের মহিলারা এই ট্রেন পুজোর আয়োজন করে থাকে। সকলের মঙ্গল কামনায় মেতে ওঠেন কদম্বগাছির বাসিন্দারা।

----
--