ছোড়দি আর রাখী পরায় না, মন খারাপ রুপান্তরকামী প্রীতির

ফাইল ছবি

সৌমেন শীল, কলকাতা: সাফল্য পাওয়া বেশ কঠিন। অনেক লড়াই করে আসে সাফল্য। সেই সাফল্য ধরে রাখা আরও কঠিন বিষয়। প্রবাদটি চিরন্তন। আর সেই প্রবাদের গুরুত্ব বেশ ভালো বুঝতে পারছেন রুপান্তরকামী প্রীতি সেনগুপ্ত।

রাখী পূর্ণিমার দিনে মন ভালো নেই প্রীতির। বোন হিসেবে কাউকে রাখী না বাঁধার জন্য নয়। প্রীতির দুঃখ অন্য জায়গায়। ছোড়দি এখন আর তাঁকে রাখী বাঁধছে না। রাখী তো অনেক দূরের কথা। ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রীতির সেই প্রিয় ছোড়দি।

আরও পড়ুন- “আমাকে ইন্টারকোর্স করতেই হবে”

- Advertisement -

একসময় ভাই ছিল সেই ছোড়দির চোখের মণি। বছর দেড়েক ধরে সেই আদরের ছোট ভাইকে আর তিনি পছন্দ করেন না। কারণ ভাই যে এখন লিঙ্গ বদল করে বোন হয়ে গিয়েছে।

কেবলমাত্র লিঙ্গ বদল হয়েছে, মনের বদল ঘটেনি। ছোড়দির প্রতি ভালোবাসাও কমেনি এতটুকু। সেই কারণেই রাখীর দিন খুব মনে করে সেই প্রিয় দিদির কথা। প্রীতির কথায়, “খুব মিস করি ছোড়দিকে। এখন আর আমার সঙ্গে কথা বলে না। রাখীর দিন মনটা খারাপ লাগছিল ছোড়দির জন্য।”

আরও পড়ুন- টাকি বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হচ্ছেন এই লাস্যময়ী

উত্তর কলকাতার বাগবাজারের বনেদি পরিবারের ছেলে ছিলেন প্রীতি। ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল মেয়ে হওয়ার। লিঙ্গ বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার পর। দিল্লিতে চাকরি করতে গিয়ে নিয়েছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাজনিত জটিলতা পার করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে আসে সাফল্য। মেয়ে হওয়ার পরে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, “মেয়ে হওয়াটা আমার কাছে একটা বড় সাফল্য।”

আরও পড়ুন- চার বছর ধরে সেক্স করার পর জানা গেল স্ত্রী এখনও ‘ভার্জিন’

সেই সাফল্যই এখন কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারিবারিক জীবনে। দিল্লিতে একা থাকলেও কলকাতায় পরিবারের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন প্রীতি। দুর্গাপুজোর আসেন নিজের শহরে। এবার পুজোর মরশুমে কলকাতায় আসা নিয়ে সন্দিহান তিনি। কারণ তাঁর এই সিদ্ধান্তে প্রবল প্রতিকূলতায় রয়েছেন প্রীতির জননী। কারণ ছেলের লিঙ্গ বদল করে মেয়ে হয়ে গিয়েছে তা নিয়ে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা নানান কথা বলে। তালিকায় অনেক ‘স্বঘোষিত শুভানুধ্যায়ী’রাও আছেন।

ফাইল ছবি

এই বিষয়ে প্রীতি বলেছেন, “অনেকেই এখন মা’কে বলে, ছেলেকে কেন যে বাইরে পাঠালে…।” এই গঞ্জনা থেকে রাগের বশেই নিজের সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও সন্তানের এই সিদ্ধান্তে কখনও বাধা দেননি। প্রীতির কথায়, “আমার এই বিষয়টা বাবা-মা খুব ভালোভাবে মেনে নিয়েছিলেন এমন নয়। কিন্তু, আমাকে কখনও কিছু বলেননি। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এটা মেনে নিয়েছেন একপ্রকার বাধ্য হয়েই।”

আরও পড়ুন- টাকি বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হচ্ছেন এই লাস্যময়ী

এই বছরে পুজোয় কলকাতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন প্রীতি। মায়ের সঙ্গে দেখাও করবেন। জন্মদাত্রীর উদ্দেশ্যে একটা ছোট উত্তরের বড় প্রশ্ন রয়েছে তাঁর। কলকাতায় এসে মাকে জিজ্ঞাসা করবেন, “তোমার কাছে কে বড়?” উত্তর হিসেবে দু’টি অপশন রেখেছেন প্রীতি। যেগুলি হল, “তোমার সন্তান নাকি সমাজ?”

Advertisement ---
-----