‘একটু কম হোমওয়ার্ক দিতে বোলো’, গুহার অন্ধকার থেকে ফুটে বেরোচ্ছে বুকভরা আব্দার

ব্যাংকক: মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন নেইমার। একে একে ধরাশায়ী হয়েছেন মেসি-রোনাল্ডোরা। ‘হিরো’দের পরাজয়ের সেসব দৃশ্য আর দেখা হল না খুদে ফুটবলারদের। সপ্তাহ দুয়েক পরে গুহার অন্ধকারে কোনোরকমে ঢুকেছে বেঁচে যাওয়ার একটা ক্ষীণ আশা। আর সেই আশাতেই এবার উপচে বেরিয়ে এল কিশোর হৃদয়ের আব্দার-অভিমান।

গত কয়েকদিন ধরেই একটা ছবি বারবার ঘুরে-ফিরে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে। অন্ধকার গুহার ভিতর কয়েকটা হাসি মুখ। যাদের কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে দিনদুয়েক আগে। সেই সন্তানদের ছোঁয়ার জন্য আকুল হয়ে রয়েছেন বাবা-মায়েরা। তাদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে উদ্ধারকারীরা। কতদিন লাগবে? দিশা দেখতে পাচ্ছেন না কেউ। এসবের মধ্যেই বাবা-মায়ের জন্য চিঠি লিখল থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া সেই শিশুরা।

‘চিন্তা করো না মা’, মনটা শক্ত করে এটাই লিখেছে তারা। কাদা মাখা তাদের হাতে লেখা সেই চিঠি ‘নেভি সিল’ পোস্ট করেছে তাদের ফেসবুক পেজে। বুক ভরা আব্দার ফুটে বেরিয়েছে তাদের হাতের লেখায়। ‘বাবা তোমাকে ভীষণ ভালবাসি, মা’কেও। আর ভাইকেও। আমি এখান থেকে বেরলে আমার জন্য পর্ক বারবিকিউ এনো।’ লিখেছে অন্য এক কিশোর। কেউ শিক্ষকের উদ্দেশে লিখেছে, সে যখন বেরবে যেন তাকে আর বেশি হোমওয়ার্ক না দেওয়া হয়। অবাধ্য-অশান্ত খুদে মন এখন বড্ড বেশি আঁকড়ে ধরতে চাইছে বাবা-মা’কে। তাই লিখছে, ‘চিন্তা করো না। শুধু দু’সপ্তাহের জন্যই তো গায়েব হয়ে গিয়েছি। প্রত্যেকদিন তোমাদের দোকানের কাজে আমি সাহায্য করব।’ ‘আমার জন্মদিনটা যেন ভুলে যেও না!’ কাতর আর্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে বাবা-মা’কে।

- Advertisement -

আর এই ফুটবলারদের কোচ, যিনি নিজেও আটকে আছেন গুহায়, তিনি তো বাবা-মা’কে হারিয়েছেন সেই ১০ বছর বয়সে। ঠাকুমার জন্য চিঠি লিখলেন তিনিও। সব বাবা-মায়েদের প্রমিস করলেন, তাদের সন্তানদের কিচ্ছু হতে দেবেন না, আগলে রাখবেন সবাইকে।

দলটি এমন জায়গায় আটকা পড়ে আছে যে গুহার বাইরে আসতে হলে তাদের ডুবুরির মতো জলের নিচ দিয়ে সাঁতার কাটা শিখতে হবে, অথবা কয়েক মাস গুহার মধ্যেই অপেক্ষা করতে হবে, যতদিন জল না নামে। চার মাস ধরে হয়ত বাইরে থেকে খাবার পাঠিয়ে যেতে হবে। এমনটাই আশঙ্কা সেনাবাহিনীর। কারণ, ক্রমাগত বাড়ছে জল।

এদিকে বর্ষা নতুন করে শুরু হওয়ার আগেই বের করতে হবে ১৩ জনকে। আর সেই জন্য চেষ্টার ত্রুটি নেই। উদ্ধারকাজে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক নৌসেনাও। ঘন অন্ধকার আর একবুক জলে প্রতিকূলতা যেন কিছুতেই কাটছে না। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা জারি থাকবে তো? আশঙ্কায় রাত কাটছে সবার।

Advertisement ---
---
-----