নেপাল-সহ ভারতজুড়ে তীব্র ভূমিকম্প

কাঠমান্ডু : মঙ্গলবার ফের তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প অনু্ভূত হল নেপাল-সহ গোটা উত্তর ভারতে। ভূকম্পনের জেরে নেপালে এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যূ হয়েছে। জখম ১১১৭। অন্যদিকে ভারতে শুধুমাত্র বিহারেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।  জখম হয়েছেন  ৩৯ জন।

ভূকম্পনের জেরে এখনও পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৪২। জখম অন্তত ১১১৭। রিখটর স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ৭.৪। কম্পনের উৎসস্থল মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশে নামচে বাজার। এভারেস্ট থেকে নামচে বাজারের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। এটি একটি বেস ক্যাম্প। এভারেস্টে অভিযান করতে হলে এখান থেকেই যাত্রা শুরু করেন অভিযাত্রীরা।  তবে অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে কম্পনের উৎস নেপাল-চিন সীমান্তে ঝাম এলাকা।  ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৯ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎস। ইতিমধ্যেই নেপালের চৌতারাতে একটি চারতলা বাড়ি ভেঙে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নেপাল জুড়ে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ফের অসংখ্য বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিত ভাবে জানা যায়নি এখনও।নেপালের বিদেশমন্ত্রী মহেন্দ্র পান্ডে জানিয়েছেন, ভূকম্পনের জেরে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে সমস্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নেপালের সঙ্গে বাকি পৃথিবীর যোগাযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এদিন নেপালে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় ১২.৩৬ মিনিটে। তারপর থেকে পরপর ছ’বার আফটার শক হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র।

nepal-2

- Advertisement -

নেপালের পাশাপাশি ভারতজুড়েও মঙ্গলবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, নয়াদিল্লি, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছে। বিহারে ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে একজন মারা গিয়েছেন। বাড়ির ছাদ ধ্বসে দু’জন জখম হয়েছেন। প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। পাশাপাশি বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং চিনেও ভূমিকম্প হয়েছে।  ভারতের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, এখানেও প্রথম কম্পন অনুভূত হয় ১২.৩৬ মিনিট নাগাদ। ২০ সেকেন্ড ধরে কেঁপেছে ভূখণ্ড। তার পরে আরও  দুটি আফটার শক অনুভূত হয়েছে ।  ৩৩ মিনিটের মধ্যে মোট দু’বার কম্পন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিহারে এবং কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকাতেও পরপর দু’বার কম্পন অনুভূত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন। ভয় না পাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। এদিন ভূমিকম্পের পরেই মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেক মন্ত্রকের সচিব এবং শীর্ষ আমলাদের গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নেপালকে অকুণ্ঠ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও ভূমিকম্পের জেরে ভয় পেয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানতে নেপালের দুর্ঘটনাস্থলে ভারতীয় বায়ু সেনার এম ১-১৭ভি৫  বিমানটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা টিমকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রতিমূহূর্তে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছেL

earthquake-effect-nepal

 

 

 

 

 

 

রাঁচি, ধানবাদ, বোকারো-সহ ঝাড়খণ্ডের একাধিক এলাকায় মঙ্গলবার ভূমিকম্প অনু্ভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে জানা গিয়েছে, সে সময় ব্যস্ত অফিস টাইমে সবাই আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে হতাহতর কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পরে আতঙ্কের জেরে লখনউতে এদিন সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়।

এদিকে এদিনের ভূমিকম্পের জেরে নেপালজুড়ে প্রবল ভূমিধ্বস শুরু হয়েছে। চিতাওয়ানের কাছে  বড়সড় ধ্বস নেমেছে। ফলে ভারত থেকে কাঠমান্ডুতে পণ্য পরিবহণের একমাত্র সংযোগকারী আন্তর্জাতিক সড়কটি ভেঙে গিয়েছে।

Advertisement ---
---
-----

Comments are closed.