পুতুলনাচের ইতিকথায় এবার রঙিন ত্রিধারার পুজো

দেবযানী সরকার, কলকাতা:  ‘…হাম সব তো রঙ্গমঞ্চ কি কাঠপুতলিয়া হ্যায়, জিনকি ডোর উরওয়ালিকি অঙ্ঘুলি বে বাঁধি হ্যায়, কব কউন ক্যায়সা উঠেগা, এ কোই নেহি বাতা সাকতা’-  ‘আনন্দ’ ছবির এ কাল্ট সংলাপে জীবনের গভীর সত্যিকে যা তুলে এনেছিল তা নেহাতই পুতুলনাচ৷খৈয়ামের রুবাইয়েও জীবনের দর্শন উঠে এসেছিল এই পুতুলনাচেই- ‘We are the puppets and fate the puppeteerয/This is not a metaphor, but a truth sincere/On this stage, fate for sometime our moves steer/Into the chest of non-existence, one by one disappear.’ এই যে কাব্য থেকে জনপ্রিয় সিনেমার সংলাপে পুতুলনাচের উঠে আসা, তার কারণ একসময় এ দেশের গ্রামে-নগরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল পুতুলনাচ৷ কিন্তু সময় গড়িয়ে পুতুলনাচের ইতিকথা আজ প্রায় বিস্মৃত৷সময়ের ধুলো সরিয়ে পুতুলনাচের রঙিন কথকথা এবার শহরবাসীকে দেখানোর আয়োজন করেছে ত্রিধারা সম্মিলনী ৷

TRIDHARA-03
ত্রিধারায় তৈরি হচ্ছে কাঠপুতুলের সংসার৷ ছবি-মিতুল দাস

তারের উপর কাঠপুতুলের নাচ আজও অনেককেই ফিরিয়ে দেয় রঙিন শৈশবে৷ একসময় পুতুলনাচ বাংলায় খুব জনপ্রিয় ছিল৷ কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এই পুতুল নাচ প্রায় নেই বললেই চলে৷ গ্রামে গঞ্জে কোথাও টিমটিম করে টিকে থাকলেও, দেশীয় এই শিল্পের যে মান্যতা পাওয়ার কথা ছিল তা যে পায়নি সে কথা বলাই বাহুল্য৷ দুর্গোৎসবের মধ্যে দিয়েই শৈশবের সেই রঙিন দিনগুলিকে মনে করাতে চাইছে এই পুজোর কর্তৃপক্ষ৷এবছর ত্রিধারা সম্মিলনীর  থিম- কাঠপুতুলের ঢঙে প্রকৃতির রঙে৷

বাংলার সীমানা পেরিয়ে পুতুলনাচ ভারতের লোকশিল্পের সঙ্গে  জড়িয়ে গিয়েছিল অঙ্গাঙ্গিভাবে৷ বাংলা পেরলে এখনও পুতুলনাচের কদর চোখে পড়ে৷ এখনও রাজস্থান কিংবা গুজরাটের  কোনও মেলা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয় না এই পুতুলনাচ IMG-20151006-WA0000ছাড়া৷ একসময় বাংলাও এই পুতুল নাচের কদর করত৷ পুতুলনাচের  মধ্য দিয়ে রামায়ণ, মহাভারত, চণ্ডীমঙ্গল কিংবা রাধাকৃষ্ণের প্রেম উপাখ্যান পরিবেশিত হয়৷ পরবর্তীকালে দুই সখীর নাচ, মাছধরার গল্প, রাজকুমার-রাজকুমারীর গল্প শৈশব মনকে আনন্দ দিত৷ কিন্তু সেসব এখন অতীত৷ এ প্রজন্মের কাছে পুতুলনাচের গল্প অনেকটা রূপকথার মতো৷ বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে পুতুলনাচের পরিচয় করাতে এবছর ত্রিধারা সম্মিলনীর মণ্ডপ সেজে উঠছে কাঠপুতুল দিয়ে৷

- Advertisement -

 সাতটি কাঠপুতুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল মণ্ডপ৷ শিল্পী গৌরাঙ্গ ক্যুইলা জানিয়েছেন, এই সাতটি কাঠপুতুলের মধ্যে মাঝের পুতুলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০-৪৫ ফুট৷ দুপাশের তিনটি করে সাজানো পুতুলের দৈর্ঘ্য ২০-২৫ ফুট৷ শিল্পী জানিয়েছেন, গাছের পাতা, শুকনো ফল, শামুক, ঝিনুক, খেজুর তালাই, আমড়ার আটি,পাটকাঠি, লিলিফুলের ভিতরের অংশর মতো প্রাকৃতিক জিনিস দিয়েই তৈরি হচ্ছে পুতুলদের গয়না ৷

মণ্ডপের নান্দনিকতা ধরে রাখতে গোটা মণ্ডপজুড়ে থাকছে আলো-আধাঁরির খেলা৷ সঙ্গে দেবজ্যোতি মিশ্রের সুরে, গার্গী মুখোপাধ্যায়ের কথায় রূপঙ্কর ও শুভমিতার কন্ঠে ত্রিধারা সম্মিলনীর থিম মিউজিক দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা৷