তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে আক্রান্ত হলেন বনকর্মীরা

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: লক্ষ লক্ষ টাকার বেআইনি কাঠ বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এডিএফও অমর দে ও রেঞ্জ অফিসার আশিস মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন বনকর্মী৷ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বেলা ১১ টা নাগাদ বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পানা রেঞ্জ সংলগ্ন বনবস্তিতে৷ স্থানীয় কাঠ কালচিনি যুব তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতা মাফিয়া পাষাং লামা ও তার ভাই লামার নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে বনদফতের কর্মীরা৷

বনদফতের কর্মীরা জানিয়েছেন, আক্রমনকারীরা তাঁদের বেধরক মারধর করে৷ এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়৷ আক্রমনকারীদের বিরুদ্ধে কালচিনি থানায় এফআইআর করেছে বনদতর৷ আক্রান্ত বনকর্তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় বাজেয়াপ্ত করা কাঠ উদ্ধার করতে দেয়নি কাঠ মাফিয়ারা৷ পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ফের অভিযান শুরু করে বনদফতর৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার হতে শুরু করে প্রচুর পরিমাণে সেগুন কাঠ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকার কাছাকাছি হবে বলে অনুমান বনকর্তাদের।

পাষাং লামার বিরুদ্ধে হ্যামিল্টন রেল স্টেশনের পাশে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কাঠের ব্যাবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এলাকায় তাদের প্রভাব থাকার কারণে পুলিশও ওই যুব তৃণমূল নেতাকে ঘাঁটানোর সাহস পায়না বলে অভিযোগ। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি মোহন শর্মা।

- Advertisement -

তিনি জানিয়েছেন, কেউ আইনের উর্ব্ধে নয়। দলের দোহাই দিয়ে এই ধরনের বেআইনি কাজ করা যাবে না। দল কোন ভাবেই অপরাধীদের পাশে থাকবে না। আইন আইনের পথে চলবে।

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘যে যত বড় প্রভাশালীই হোক না কেন, এই ধরণের বেআইনি কাজকে কিছুতেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করব৷’’

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, বনদফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাসি চলছে। বেআইনিভাবে মজুত করা কাঠ বাজেয়াপ্ত করার জন্য বনদফতরকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে পুলিশ।

Advertisement
---