স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে বাংলা জুড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ছবি দেখেছে রাজ্যবাসী৷ তুঙ্গে উঠেছিল শাসক বিরোধী চাপানউতোর৷ শুক্রবার পঞ্চায়েত মামলার রায় ঘোণার পর আবারও কী ফিরে আসছে সেই হিংসার স্মৃতি? বীরভূমের বেশ কয়েকটি ঘটনায় আতঙ্কিত জেলার মানুষ৷

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই বীরভূমের তৃণমূল সমর্থককে লক্ষ করে বোমা মারার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে৷ বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সদাইপুর থানার তুরুপগড়ীহাট গ্রামে৷ দুষ্কৃতীরা বিজেপি আশ্রিত বলে অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের৷

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত মামলায় রায় ঘোষণার পর তুরুপগড়ীহাট গ্রামে বিজয় মিছিল করে তৃণমূল৷ সেই মিছিলে অংশ নেন শাসক দলের সমর্থক আপসার হোসেন (৩৪)৷ সেই সময়ই তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা মারা হয় বলে অভিযোগ৷ বোমার আঘাতে জখম তৃণমূল সমর্থককে সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ জানা গিয়েছে, আপসার হোসেন পেশায় পুলিশ কর্মী৷ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার আমতলা ফাঁড়িতে কর্মরত সে৷ ছুটিতে বাড়ি এসেছিল আপসার৷

আরও পড়ুন: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত কেষ্টর খাসতালুক

জখম আপসার হোসেনের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী শেখ গরিব ও তার দলবল এই হামলা চালিয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আদালতের রায়ে মুখ পুড়েছে বিরোধীদের৷ তাই রাজনৈতিক লড়াইতে ব্যর্থ হয়েই বিজয় মিছিলে হামলা চালাচ্ছে তারা৷ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি৷ নানুরের ঘটনার উদাহরণ টেনে বিজেপির পাল্টা দাবি, গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই হামলা৷

নানুরের পর সদাইপুর৷ ফের হিংসার আঁচ বীরভূমে৷ সিঁদুরে মেঘ দেখছেন লাল মাটির দেশের বাসিন্দারা৷

পঞ্চায়েত ভোটে বীরভূমের জেলাপরিষদের সবকটি আসনেই বিনা প্রতিন্দন্দ্বতায় জয় এসেছে ঘাস ফুল শিবিরের৷ পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসনেই একই চিত্র৷ সেই বীরভূমে তৃণমূল কর্মীর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কী অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে?

----
--