আগরতলা ও নয়াদিল্লি: হয়নি সমঝোতা৷ ফলে সরকারের জোট শরিক উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি বনাম বিজেপির লড়াই হতে চলেছে ত্রিপুরায়৷

গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জোট টানা দু দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে৷ সূত্রের খবর, দিল্লিতে বিজেপির সংসদীয় বোর্ড কোনওভাবেই ত্রিপুরার দুটি লোকসভা আসনে প্রার্থী দেওয়া থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি৷

ফাইল ছবি

জানা গিয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বিজেপির অন্যতম নেত্রী তথা রাজ্যের সাধারণ সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক৷ এবং পূর্ব ত্রিপুরা আসনে লড়াই করবেন রেবতী ত্রিপুরা। বিজেপি দুটি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় সংঘাত বাড়ল সরকারি জোটে৷

অন্যদিকে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে ত্রিপুরায়৷ কারণ আগেই বিরোধী বামেরা তাদের দুই সাংসদকে পুনরায় প্রার্থী করেছে৷ পূর্ব ত্রিপুরা উপজাতি সংরক্ষিত আসনে আসনে সিপিএম প্রার্থী হলেন-জিতেন্দ্র চৌধুরী৷ আর পশ্চিম ত্রিপুরায় ফের লড়াই করছেন শঙ্কর প্রসাদ দত্ত৷ দুই প্রার্থীর সমর্থনে ইতিমধ্যেই আগরতলা সহ রাজ্যের সর্বত্র শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার৷ আবার কংগ্রেস এবং আরও কয়েকটি উপজাতি সংগঠনের যৌথ প্রার্থী লড়াই করবেন নির্বাচনে৷ একটি ত্রিপুরা রাজপরিবারের সদস্য তথা বর্তমান রাজা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা৷

জোট শরিক আইপিএফটি-কে একটিও আসন ছাড়তে নারাজ ছিল বিজেপি৷ কিন্তু পূর্ব ত্রিপুরা আসনটি পেতে মরিয়া ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি৷ তাদের দাবি, পৃথক তুইপ্রাল্যান্ড৷ এই দাবিকে সামনে রেখেই লোকসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে আইপিএফটি৷ আসন বণ্টন নিয়ে দু পক্ষ অনড় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়৷ উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মার সঙ্গে আলোচনাতেও জট কাটেনি৷ এতে বাড়ে শরিকি ফাটল৷

সূত্রের খবর, সদ্য রাজ্যে ক্ষমতায় আসা এই জোট লোকসভায় যাতে একসঙ্গে লড়াই করতে পারে তার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব৷ কিন্তু উপজাতি নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান পাল্টাতে চাননি৷ এই অবস্থায় দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয় ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের৷ আইপিএফটি’র সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের পরেই এই জোটের ফাটল আরও বাড়বে৷ সেক্ষেত্রে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে আইপিএফটি৷