জোড়া সামাজিক প্রকল্পের কাজ দেখতে জেলায় ত্রিপুরার প্রতিনিধি দল

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দুটি আলাদা প্রকল্প৷ কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই৷ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলা৷ যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ছোট্ট স্বপ্নকে জড়িয়ে ধরে৷ এখন সাফল্যের চাবিকাঠি এই দুই প্রকল্পের হাতের মুঠোয়৷ প্রকল্প দুটির নাম ‘মা লক্ষ্মী’ এবং ‘মাল্টিপার্পাস ফার্ম’।

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ব্লকে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে মা লক্ষ্মী এবং মাল্টিপার্পাস ফার্ম। গোটা রাজ্যে ব্যতিক্রমী এই দুই প্রকল্পের কাজ। সেই কাজ এবার নজর কাড়ল ত্রিপুরার প্রশাসনিক আধিকারিকদের৷ মঙ্গলবার প্রকল্প ২টি পরিদর্শন করতে জেলায় আসে একটি দল৷ অ্যাডিশনাল সেক্রেটারির নেতৃত্বে ১২ জনের প্রতিনিধি দলে ১০ জন বিডিও এবং নারেগা প্রকল্পের একজন নোডাল অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন:সচেতনতা বাড়লেও রোখা যাচ্ছে না বাইক দুর্ঘটনা

- Advertisement -

প্রতিনিধি দলকে এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর পাশাপাশি দুই প্রকল্পের সাফল্য কাহিনী তাঁদের সামনে তুলে ধরেন ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শুভজিৎ কুণ্ডু। এই প্রসঙ্গে বিডিও বলেন, ‘‘আমাদের ব্লকের সফল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর ত্রিপুরার প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। প্রকল্পের কাজ দেখে প্রতিনিধিরা বেশ খুশি। সফল প্রকল্পগুলোর টেকনিক্যাল বিষয়গুলো তাঁরা জেনে গিয়েছেন। প্রয়োজনে যোগাযোগ করবেন বলেও জানিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।’’ উল্লেখ্য, বিডিও শুভজিৎ কুণ্ডুর জন্যই মূলত সাফল্য পেয়েছে মা লক্ষ্মী এবং মাল্টিপার্পাস ফার্ম প্রকল্প।

১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে হাতিয়ার করে বছর তিনেক আগে পথ চলা শুরু হয়েছিল ‘মা লক্ষ্মী’ প্রকল্পের। যার মূল লক্ষ্য ছিল নাবালিকা বিয়ে রোধ, নারী শিক্ষার প্রসার আর আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা। উদ্দেশ্য সফল করে এখন পূর্ব মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকা পটাশপুর ২ ব্লকের প্রতিটি মানুষেরই বেঁচে থাকার অঙ্গীকার হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মা লক্ষ্মী প্রকল্প। এই প্রকল্প ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর শিক্ষা এবং স্বনির্ভরতার অধিকার। দূর করেছে পরিবারের আর্থিক সঙ্কট। তাই এখন আর নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করতে রাতদুপুরে বিডিও কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকদের ছুটতে হয় না৷

অন্যদিকে, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচে বছর খানেক আগে গড়ে উঠেছিল মাল্টিপার্পাস ফার্ম। যেখানে পশু-পাখি পালন থেকে শুরু করে জৈবিক সার ব্যবহার করে গ্রিন হাউসে সবজি চাষ, পুকুরে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়৷ যার মাধ্যমে সকলকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ব্যর্থ হয়নি এই প্রকল্প৷ ‘মা লক্ষ্মী’ প্রকল্পের মতো সাফল্য এসেছে এই প্রকল্পেও।

Advertisement ---
---
-----