বাণিজ্যে শুল্ক যুদ্ধে ট্রাম্প মোদী

নয়াদিল্লি: এ যেন বাণিজ্যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়েছে ৷ ট্রাম্প ইস্পাত অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক বসায় তো পাল্টা চাল দিতে কৃষিজ পণ্য, চিংড়িতে শুল্ক বসান মোদী৷ ৯ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য আমদানির উপর যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করে। এর ফলে ভারতের ১৯.৮৬ কোটি ডলার মূল্যের ইস্পাত ও ৪.২৪ কোটি ডলার মূল্যের অ্যালুমিনিয়াম পণ্য রফতানি ধাক্কা খাচ্ছে। তারই পাল্টা চাল হিসেবে এবার ভারত মার্কিন মুলুক থেকে আমদানি হওয়া সমমূল্যের ৩০টি পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এই শুল্ক ৭.৫ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে, বাকিগুলির ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে অগস্ট মাস থেকে। পণ্যগুলিক মধ্যে রয়েছে – দেশি ছোলা, কাবুলি ছোলা, ডাল, বাদাম, আপেল, চিংড়ি মাছ,ইত্যাদি। তাছাড়া, বোরিক অ্যাসিড, ইস্পাত ও লোহার পণ্য, প্রভৃতি পণ্যের আমদানি শুল্কও বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক বর্ধিত শুল্কের পণ্যগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করে।

ইতিমধ্যেই ট্রাম্প যে ভাবে সীমাশুল্ক নীতি প্রণয়ন করেছেন তার বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলিকেও৷ কানাডা ও মেক্সিকো সহ গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এমন শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারপরে এবার ভারত মার্কিন পণ্যের উপর সীমাশুল্ক বাড়িয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘ঠান্ডা’ বাণিজ্য যুদ্ধে চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গী হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তবে গত মাসেই ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের কাছে নালিশ জানিয়েছিল ভারত।

- Advertisement -

এদিকে যৌথ বাণিজ্য প্রসঙ্গে ট্রাম্পের যুক্তি, উদার বাণিজ্য নীতির সুযোগ নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলি আমেরিকা থেকে যত না পণ্য কিনেছে তার থেকে অনেক বেশি মূ্ল্যের পণ্য সে আমেরিকাকে বিক্রি করেছে। এরফলে এই সব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আমেরিকার বিপুল ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

Advertisement ---
---
-----