দীঘায় আছড়ে পড়বে সুনামি! দ্রুত সরানো হচ্ছে মানুষকে

দীঘা ও কাকদ্বীপ: ‘আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ আগামী কিছুক্ষণের মধ্যে সুনামি আসবে৷ আমাদের উদ্ধারকারী দল রয়েছে৷ অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই৷’ এর কিছু ক্ষণ পরেই হায়দরাবাদের সুনামি অ্যালার্ট সেন্টার থেকে একসঙ্গে সব জায়গায় সাইরেন বেজে উঠল৷২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪৷ সমুদ্রের নীচে জোরালো ভূমিকম্প জন্ম দিয়েছিল সুনামির৷ সুউচ্চ ঢেউ আছড়ে পড়েছিল ইন্দোনেশিয়া থেকে চেন্নাই তটে৷ জল চলকে উঠেছিল বাংলার উপকূলেও৷ সেই ছবি আবার ফিরে এল ২৪ নভেম্বর৷ পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্রে দেখা দিল জলোচ্ছ্বাস৷ তবে আসল নয়, নকল সুনামি৷ আসলে বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়া! দেখে নেওয়া হল, সত্যিই সুনামি সতর্কতা জারি হলে কতটা জলদি নিরাপদে সরতে পারেন মানুষজন৷

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টা  থেকে দশটার মধ্যে বেজে উঠল সাইরেন৷ উপকূলবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়া হল নিরাপদ দূরত্বের ত্রাণ শিবিরে৷ গবাদি পশুদের রাখা হল আশ্রয় শিবিরে৷ আর এভাবেই সুনামি ফিরল  ‘মক ড্রিল’-এর চেহারায়৷ ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এ  দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় মহড়ার ব্যবস্থা করেছে৷ রাজ্যে মহড়া হল পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ পরগনার মোট সাত জায়গায়৷ সাম্প্রতিক কালে দেশে এত বড় মাপের কোনও বিষয়েই মহড়া হয়নি৷

এদিন সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ১ এবং ২ ছাড়াও কাঁথি ১ নম্বর ব্লকে হয় সুনামির মহড়া৷  মহড়ার সময়  সব বিভাগগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে ৷ দু’টি ভাগে মোকাবিলা করা হবে প্রাক বিপর্যয় ও বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতির৷ সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো দেখা যায়, আগে থেকে ঠিক করে রাখা কিছু গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ল সমুদ্রের জলে৷ তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল  বৈদ্যুতিক তার৷ এর পর শুরু হয়  বিদ্যুৎ দফতর ছাড়াও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কাজ৷ গ্রামের লোকেদের জন্য তৈরি করা ছিল ত্রাণ শিবির৷ প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মহড়া দিতে গিয়ে যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয় , তার জন্য আকাশে হেলিকপ্টার নিয়ে ছিলেন কোস্টগার্ডের কর্মীরা৷ এনডিআরএফ ছিল স্পিড বোট নিয়ে৷

- Advertisement -

গ্রামের লোকেদের দেখানো হয়, কী ভাবে জলোচ্ছ্বাস বাড়লে দ্রুত স্পিড বোডে উঠতে হয়৷ এরই পাশাপাশি বেশ কিছু অস্থায়ী চিকৎসাকেন্দ্রও গড়ে তোলা হয়৷ এই মহড়াতে এমন কয়েকজনকে আসল আহত বলে দেখানো হয়৷ তাঁদের স্ট্রেচারে এবং অ্যাম্বুল্যান্সে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়  অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ অন্য একটি দল তৈরি ছিল যারা গ্রামের বিভিন্ন গবাদি পশুকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে নির্দিষ্ট ত্রাণ শিবিরে৷ প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে এই মহড়া পর্ব৷বিকেলের মধ্যেই শেষ হয় পুরো মক ডিল প্রক্রিয়া৷

Advertisement ---
-----