আজও টুসু বেঁচে আছে বাঁকুড়ার বুকে

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে ভোর থেকেই বাঁকুড়ার নদীগুলিতে পুণ্যার্থীদের ভিড়। একই সঙ্গে জেলার দক্ষিণাংশের একটা বড় অংশের মানুষ প্রাচীন টুসু উৎসবে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও মঙ্গলবার থেকেই সিমলাপাল নদী ঘাটে খাতড়া মহকুমা এলাকার সর্ববৃহৎ গঙ্গা মেলা শুরু হয়েছে।

খাতড়া এলাকার কংসাবতী তীরবর্তী পরকুল গ্রাম টুসু উৎসবের জন্য বিখ্যাত। একদিনের এই টুসু মেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকেই নদীতে টুসু চৌদল ভাসানোর কাজ চলছে। আধুনিক নগর সভ্যতার চাপে বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রসারে ভাঁটা পড়লেও আজও টুসু উৎসবকে নিয়ে মানুষের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো।

বিশিষ্ট শিক্ষক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ে বহু দিন ধরে কাজ করে আসা হরিপদ মাহাতো বলেন, টুসু হল প্রচলিত বিশ্বাস ও শস্য কাটার আনন্দোৎসবের এক মিলিত রূপ। টুসু উৎসব শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিনে। আর তা শেষ হয় পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির দিন। টুসু মূলত লৌকিক দেবী৷ তাঁকে কুমারী বালিকা হিসেবে পুজো করা হয়। এই উৎসবের মূল অঙ্গ যেমন গান, তেমনি মেয়েরাই এই পুজোর প্রধান ব্রতী। মাটির মূর্তি বা রঙ্গিন কাগজে চৌদল দেবীর প্রতীক হিসেবে স্থাপন করা হয় বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে ছাতনা কুড়মি সমাজের উদ্যোগে কাঁসাচরা সেতু সংলগ্ন এলাকায় টুসু সঙ্গীত ও চৌড়ল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই এলাকার অসংখ্য মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই দুই প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধাকারীদের পুরস্কৃত করা হবে।

---- -----