ট্রফি জয়ে ‘পুত্রসন্তান’ লাভের আনন্দ টুটুর

কলকাতা: ২০০৯ শেষবার সংগ্রাম মুখার্জির নেতৃত্বে কলকাতা লিগ জিতেছিল মোহনবাগান। এরপর টানা আটবছর ট্রফি জয়ের স্বাদ ছিল অধরা। গত মরসুমে তীরে এসেও ডুবেছিল সবুজ-মেরুন তরী। সংগৃহীত পয়েন্ট সমান হলেও স্রেফ গোলপার্থক্যের নিরীখে লিগ হাতছাড়া করতে হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কাস্টমসকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই চলতি মরশুমের কলকাতা লিগ জয় নিশ্চিত করল মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

লাল-হলুদ মশাল নিভিয়ে অনেকবছর পর লিগের রঙ ফের সবুজ-মেরুন। আনন্দে উদ্বেলিত বাগানের সভ্য-সমর্থকরা। ময়দানের সব পথ যেন আজ গিয়ে মিশেছে গোষ্ঠ পাল সরণির তাঁবুতে। তবে শুধু সমর্থকরাই নন, বাগানের এই লিগ জয়ের আনন্দে সামিল ক্লাবের কর্মকর্তারাও।

- Advertisement -

কয়েকদিন আগেই গোষ্ঠীকোন্দলে জর্জরিত ছিল যে সবুজ-মেরুন তাঁবুর অন্দরমহল, সেখানেই যেন আনন্দের রোশনাই। বহু প্রতীক্ষার ফসল ক্লাবের এই লিগ জয়। আটবছর পর ট্রফি জয় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে বাগান তাঁবুতে। সবুজ-মেরুন গ্যালারিতে আজ যথার্থই অকাল দিওয়ালি।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলের হারে কার্যত চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

আট বছর পর মোহনবাগানের লিগ জয়ে উচ্ছ্বসিত টুটু বসু। খাতায় কলমে এই মুহূর্তে মোহন সভাপতি না থাকলেও দলের জয় এখনও সমানভাবে উপভোগ করেন তিনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষেই তিনি লিগ জয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন৷ বিরতিতেই লিগ জয় নিয়ে তাঁর রসিক প্রতিক্রিয়া, ‘সাত বছর ধরে মেয়ে হচ্ছিল৷ হঠাৎ একটা ছেলে হয়েছে৷ কেমন লাগবে ভাই তেমন হলে? আমার ঠিক তেমনই লাগছে৷।’

বাগানের এই লিগ জয় যে বহু প্রতীক্ষার ফসল, তা টুটু বসুর কথায় স্পষ্ট। গ্যালারি জুড়ে বাগান সমর্থকদের যে উল্লাস, সেটাকেই লিগ জয়ের আসল সেলিব্রেশন বলে মনে করেন তিনি। আর দলের এই লিগ জয় যে তিনি পরিবারের ক্ষুদে সদস্যদের সঙ্গে রাতে ডিনারের টেবিলেই সেলিব্রেট করবেন তাও জানাতেও ভোলেননি বাগানের বহু যুদ্ধের কাণ্ডারি। শেষে মোহনবাগান সমর্থকদের উদ্দেশ্যে টুটু বসু বলেন, ‘বরাবর যে কথাটা বলে আসছি সমর্থকদের, আজ আরও একবার সেটাই বলব৷ ঘটিরা যেন বাঙালদের থেকে এগিয়ে থাকে সবসময়৷’

আরও পড়ুন: প্রয়াত দুই প্রধানে খেলা ফুটবলার

অন্যদিকে সচিব অঞ্জন মিত্র’র কথায়, ‘সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরতে বলেছিলাম। এই লিগ জয় তাঁদের সেই ধৈর্য্যের ফসল। আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন৷ মোহনবাগান কখনও বিশ্বাস হারায় না৷ সেটা প্রতিষ্ঠিত হত আরও একবার৷’

Advertisement
---