কলকাতা: মোহনবাগানের লিগ জয়ের সঙ্গে মহিলাদের প্রতি টুটু বোসের অবমাননাকর ও অসম্মানজনক মন্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী টুটু বোস৷ প্রেস বিবৃতি দিয়ে তিনি জানান, তিনি অনুতপ্ত৷ তাঁর বাড়িতেও নাতনি আছে৷ আনন্দে আত্মহারা হয়ে আবেগের বশে এমন কথা বলে বসেছিলেন তিনি৷ এমন এক আনন্দের দিনে কাউকে আঘাত করার অভিপ্রায় তাঁর ছিল না৷

দুঃখপ্রকাশ করে টুটু লিখেছেন, ‘‘কালকের লিগ জয়ের পর আবেগের মুহূর্তে ওই প্রেক্ষাপটে বলা বক্তব্য নিয়ে আমার নিজেরই অনুশোচনা হচ্ছে। আমার বাড়িতে আমার পুত্রবধূরা আছে। নাতনি আছে। তাই কন্যাসন্তানের গুরুত্ব আমি জানি। আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করছি। শেষে আবারও বলছি কোন মানুষকে আমি কষ্ট দিতে চাইনি।’’ এখন দেখার দুঃখপ্রকাশের পর তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে বরফ কতটা গলে।

নিছক আবেগের বশে করে করা একটি মন্তব্য৷ কিন্তু সেই মন্তব্যই ঝড় তোলে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ ঐতিহ্যশালী একটি ক্লাবের প্রাক্তন কর্তা হয়ে মেয়েদেরকে পরাজয়ের প্রতীক হিসাবে তুলে ধরায় নিন্দুকদের সমালোচনা হজম করতে হল টুটু বোসকে৷ ঠিক কি বলেছিলেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি? বুধবার আট বছর পর আই লিগ ঘরে তোলে মোহনবাগান৷ কাস্টমস-মোহনবাগান ম্যাচের বিরতিতের ফাঁকে প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘সাত বছর ধরে মেয়ে হচ্ছিল৷ হঠাৎ একটা ছেলে হয়েছে৷ কেমন লাগবে ভাই তেমন হলে? আমার ঠিক তেমনই লাগছে৷।’

ব্যস এরপরই শুরু বিতর্ক৷ আট বছর পর কলকাতা লিগ ঘরে তুলে আবেগের বশে মেয়েদের খর্ব করে বসেন ‘জাতীয় ক্লাব’ মোহনবাগান কর্তা। গর্জে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া৷ অনেকে তাঁর প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, মেয়েরা গলায় হার পড়তে পারেন, কিন্তু মেয়েরা কিভাবে পরাজয়ের প্রতীক হতে পারে সেটা বিশ্ববাসীকে জানালেন টুটুবাবু। অনেকে লেখেন, সানিয়া মির্জা, পিভি সিন্ধু, দীপা কর্মকার এদের নাম বোধহয় উনি শোনেননি৷

বিতর্ক যে হয়ে গিয়েছে মোহনবাগানের কর্তারাও সম্ভবত বিষয়টা বুঝে গিয়েছেন অঞ্জন মিত্র থেকে ক্লাবের অঙ্গ সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায় কেউ ফোন ধরেন নি। ক্লাবের জুনিয়র দলের কোচ অমিয় ঘোষ প্রথমে ফোন ধরে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেন৷ বলেন, “এটা মোটেই ঠিক হয়নি। এটা যুক্তি নেই।” পরে সামলে নিয়ে কোচ জানান, সামনে ভোট। এইসব বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। ততক্ষণে যা ড্যামেজ হওয়ার হয়ে গিয়েছে৷

----
--