শনিবার অমিত-সভায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন অধীর চৌধুরীর দুই ঘনিষ্ট কংগ্রেস নেতা

দেবযানী সরকার, কলকাতা: সদ্য একুশে জুলাই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন দলের চার বিধায়ক৷ সেই ঘা এখনও টাটকা প্রদেশ কংগ্রেসের৷ তারমধ্যেই ফের ভাঙছে দল৷ সূত্রের খবর, ১১ অগাষ্ট অর্থাৎ আগামীকাল, শনির বারবেলায় মেয়ো রোডে বিজেপির মঞ্চে যোগ দিতে চলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর আরও দুই ঘনিষ্ট সহচর৷ লোকসভা ভোটের আগে দলের ক্রমাগত ক্ষয় বাংলার কংগ্রেসের আরও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

কয়েকদিন আগে অধীর চৌধুরীর দুই অত্যন্ত ঘনিষ্ট বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ একজন মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অন্যজন বালুরঘাটের কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নীলাঞ্জন রায়৷ কংগ্রেস সূত্রের খবর, নীলাঞ্জন রায়ের হাত ধরেই নদিয়ার জেলা সভাপতি অসীম সাহা ও প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা মিশ্র বিজেপিতে যাচ্ছেন৷ নীলাঞ্জন রায়ের সঙ্গে যেহেতু বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সম্পর্ক ভাল তাই মনে করা হচ্ছে এই দুজন মুকুল রায়ের লবিতেই থাকবেন৷ সূত্রের খবর জানা গিয়েছে, নদিয়ার আরও এক কংগ্রেস নেতা কাবিল উদ্দিন শেখের এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি মাসখানেক পর দল ছাড়বেন৷ যদিও কাবিল উদ্দিন এদিন বলেন, ”সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন খবর। কংগ্রেস ছাড়ার কোনও পরিকল্পনাই আমার নেই। অধীর চৌধুরীর সঙ্গে আমি দল ছাড়ছি এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা”।

একুশের মঞ্চে ঘাসফুলের ঝান্ডা হাতে নিয়েছেন কংগ্রেসের পুরোনো বিধায়ক আক্রুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, আবু তাহের, সমর মুখোপাধ্যায়৷ এদের মধ্যে আক্রুজ্জামানও অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলেন৷ প্রদেশ সভাপতির অধিকাংশ ঘনিষ্ট নেতারাই তৃণমূল অথবা বিজেপিতে কেন চলে যাচ্ছেন, তা নিয়েই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে৷

এক প্রদেশ কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, “গত পাঁচ বছরে দলের হাল সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে৷ প্রদেশ সভাপতি হিসেবে অধীর চৌধুরী এক দায় এড়াতে পারেন না৷ উনি কেন দলে কাউকে ধরে রাখতে পারছেন না? উনি বলছেন তৃণমূল ভয় দেখিয়ে দল ভাঙাচ্ছে কিন্তু বিজেপির তো এখানে সেই ক্ষমতা নেই৷ তাহলে এত লোক বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন কেন?” এর উত্তর এখনও মেলেনি৷

Advertisement
----
-----