বাঘের খোঁজে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত দুই বনকর্মী

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: এক বাঘেই নাজেহাল, দিশেহারা, সন্ত্রস্ত। নাস্তানাবুদ বন দফতর। মঙ্গলবার সকালে গোয়ালতোড়ের হামারগোড়া জঙ্গলে হাতি তাড়ানোর গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হল দুই বনকর্মীর মৃতদেহ। মৃতদের নাম অমল চক্রবর্তী (৪৬) ও দামোদর মুর্মু (৪৭)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন দফতর আধিকারিকরা৷ মৃত অমল চক্রবর্তীর বাড়ি শালবনী থানার সাতপাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পিড়াকাটা মালিদা গ্রামে।

আরও পড়ুন: অঙ্ক ইংরেজী ছেড়ে বাঘের ভয়ে কাঁপছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা

- Advertisement -

বাড়িতে স্ত্রী ও দুই পুত্র আছে৷ খবর পাওয়া মাত্রই তারা আসে ঘটনাস্থলে। দামোদরের বাড়ি গোয়ালতোড় থানার আকছরা গ্রামে। তাদের গোয়ালতোড়ে হামারগোড়া জঙ্গলে বাঘ তাড়ানোর পাহারায় পাঠানো হয়েছিল। রাতে তারা হাতি তাড়ানোর গাড়ির ভিতর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির কাচ বন্ধ ছিল। জেনারেটর চলছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়ির ভিতরে অক্সিজেন কমে গিয়েছিল অথবা গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাদের৷ তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত ভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন:‘বাঘের ভয়ে’ বন্ধ জঙ্গল মহলের আইসিডিএস কেন্দ্র

মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি​ সেখানে যায়৷ পুরো ঘটনা না জেনে তিনি কিছু বলতে পারবেন না৷ গত ৩০ জানুয়ারি থেকে বাঘের আতঙ্ক শুরু হয়। তারপর ২ মার্চ প্রথম ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ে। এরপর বাঘটিকে ধরতে সুন্দরবন থেকে খাঁচা নিয়ে আসেন বন দফতরের অভিজ্ঞ বনকর্মীরা। একে একে লালগড়, গুড়ুগুড়িপাল, শালবনী, গোয়ালতোড়ে মোট পাঁচটি খাঁচা পাতা হয়। এর মধ্যে বাঘের আক্রমনে এক ব্যক্তি জখমও হয়।

সোমবার থেকে এই আতঙ্কের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। বন দফতর এদিন থেকে বাঘের জন্য মানুষের পাহারায় জোর দেয়। সেই মতো দুই বনকর্মী অমল ও দামোদর ছিলেন গোয়ালতোড়ের হামারগোড়ার জঙ্গলে।

আরও পড়ুন: ড্রোনের সঙ্গে লুকোচুরি ‘খেলছে’ বাঘ বাবাজি

বাঘের গতিবিধি যদি দেখা যায়, কাউকে নতুন করে সে যাতে আক্রমণ করতে না পারে। কিন্তু রাত বাড়তেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তারা। গাড়ির কাচ তুলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল হতেই তাদের ডেকে তুলতে না পেরে নিয়ে যাওয়া হয় গোয়ালতোড়ের কেওয়াকোর হাসপাতালে। সেখানেই তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনার পর বনকর্মী-সহ গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাত। তিন দুই মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন এই ঘটনা বনকর্মীদের মনোবলে ধাক্কা দেবে। তবে তা যাতে কাটিয়ে উঠতে পারে সেদিকে বন দফতরকে নজর দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, রহস্যের পিছনে মাওবাদী-চক্র?

Advertisement
-----