দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে মারল গোরক্ষকরা

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলার দুল্লু গ্রামে মোষ চুরির ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায় ১৩ টি মোষ। এই ঘটনায় রীতিমতো উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়৷ চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয় দুই মুসলিম যুবককে৷

বুধবার সকালে সিরাবুদ্দিন আনসারি ও মোর্তাজা আনসারি নামে দুই যুবকের উপর চড়াও হন গ্রামবাসীরা। সকলে মিলে ওই দুই যুবককে বেধড়ক মারধর করেন। গ্রামবাসীদের দাবি, ১৩টি মোষ চুরি করেছেন সিরাবুদ্দিন ও মোর্তাজা। এমনকী, বানকাট্টি এলাকায় তাঁদের বাড়িতে মোষগুলি নাকি দেখেছেন তাঁরা। এই অভিযোগে চলে মারধর৷

গোড্ডা জেলার পুলিস সুপার রাজীব রঞ্জন সিং জানিয়েছেন, দুই চোরকে ধরার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেন গ্রামবাসীরা। যারা মারা গিয়েছে তাদের মধ্যে একজনের নাম পুলিসের খাতায় রয়েছে। মৃত আর এক যুবক তার সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিস। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।

- Advertisement -

তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ পাঁচ জনের দুষ্কৃতী দল রাতের অন্ধকারে গ্রামে ঢুকে ১৩টি মোষ চুরি করে পালানোর চেষ্টা করছিল। গোটা গ্রাম জেগে উঠলে মোষগুলি ফেলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে ওই পাঁচ দুষ্কৃতী। তিনজন পালিয়ে গেলেও দু’‌জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা। তারপর হাত পা বেঁধে চলে বেধড়ক মারধর।

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডও করেন গ্রামবাসীরাই । ভিডিওয় দেখা গিয়েছে দুই অভিযুক্তকে বাঁশে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেও চলছে মারধর। কিন্তু যারা মারধর করছে, সেই সব অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি৷

গত বছর গো-মাংস পাচারের অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ঝাড়খণ্ডেই আক্রান্ত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মুসলিম মাংস ব্যবসায়ী। সম্প্রতি গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় ১১ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। কিন্তু, পরিস্থিতি যে বদলায়নি, তারই প্রমাণ মিলল।

গত সপ্তাহেই অসমে ছেলে ধরা সন্দেহে দুটি যুবককে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত একমাসে তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকেও গণপিটুনিতে প্রাণ গিয়েছে কমপক্ষে ৫ জনের।

Advertisement ---
---
-----