স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক যুবকের৷ ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ব্রাহ্মন বহড়া গ্রামে৷ মৃত নাম বৃন্দাবন মন্ডল (৩০)৷ যে ঘরে মৃতদেহ পড়েছিল সেই ঘর থেকেই তার দুই বোনকে হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷ ওই দুই বোনের নাম বানেশ্বরী মন্ডল ও পিনকি মন্ডল৷ পুলিশ দুই বোন ও তাদের বাবা প্রভাত মন্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে এলাকার বৃন্দাবন মন্ডলের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পায়৷ তাঁর বাড়িতে স্থানীয়রা গিয়ে দেখে বাড়ির ভিতরে ধোঁয়া ভরতি৷ বাড়ির কিছুটা অংশে আগুন লেগে গিয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে৷ অন্যদিকে ঘরের ভিতর তখন রক্তে ভেসে যাচ্ছিল৷ স্থানীয়রা ঘরের ভিতর ঢুকতেই তাঁরা দেখেন বৃন্দাবন বাবুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ আর ওই একই ঘরে তাঁর দুই অবিবাহিত বোন মেঝেতে মধ্যে পড়ে আছে। তাদের হাতের শিরা কাটা। ঘরে রক্ত ভেসে যাচ্ছে৷

Advertisement

আরও পড়ুন: তৃণমূল নেতাদের মেরে ফোন করবেন, নির্দেশ অমিত শাহের

প্রতিবেশীরা জানায় ঘরের কিছুটা অংশ আগুনে পুড়েছে। জানালা দিয়ে কিছুটা হলকা দেখা যাচ্ছে। তাঁরা খবর দেয় ময়ূরেশ্বর থানায়৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই বোনকে উদ্ধার করে সিউড়ি হাসপাতালে ভরতি করেন৷ পাশপাশি তাদের বাবাকে আটক করেছে৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দাদা বৃন্দাবন মন্ডল মুরারই মারুটিয়া গ্রামে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকতা করেন। জন্মাষ্টমীর ছুটি উপলক্ষে বাড়িতে এসেছিল তিনি। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হল সে নিয়ে সন্দেহ দানা বেধেছে। ঘরটি তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ঘরে কতটা আগুন লেগেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশিকা উড়িয়ে ফের রমরমা বালি পাচারের

কিন্তু অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যেখানে দাদার মৃত্যু হল৷ সেখানে বোনেরা প্রাণে বাঁচল কি করে। কে তাদের হাতের শিরা কাটল। গভীর রাতে যখন ঘটনাটি ঘটে সেই সময় তাদের বাবা কোথায় ছিলেন। তাদের চিৎকারে গ্রামবাসীরা জড়ো হল৷ কিন্তু তাদের চিৎকারের আগে কেন তাদের বাবা চিৎকার করেননি।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত ঘরটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দাদাকে খুন করে দুই বোন হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে৷ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন।

----
--