তিলোত্তমার ‘অ্যাটমস্ফিয়ারে’ ভাসমান বিনোদন কেন্দ্র

ভাসমান বিনোদন কেন্দ্র৷ এক্কেবারে আকাশের কাছাকাছি৷ মেঘের কোলে বসে মনোরঞ্জনের সুবন্দোবস্ত৷  এমনকি, বায়ুমণ্ডলের তৈরি সবুজ লনে গলফ খেলার ব্যবস্থা৷ অভিনব এই স্থাপত্য গড়ে উঠতে এই শহর কলকাতাতেই৷ তিলোত্তমার উপকণ্ঠ ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন (ইএম) বাইপাসের ধারে এই আইকন গড়ে তুলছে বেসরকারি নির্মাণ সংস্থা ফোরাম৷ নাম করা হয়েছে ‘অ্যাটমস্ফিয়ার’ অর্থাৎ বায়ুমণ্ডল৷

বিলাসবহুল স্থাপত্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফোরামের বেশ নামডাক৷ এবার তারা কলকাতার মুকুটে আরও একটা পালক যুক্ত করতে চলেছে৷ ভাসমান ক্লাব হাউস৷ ইএম বাইপাসের ধারে কলকাতা ওয়েটল্যান্ডের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দু’টি ৫০০ ফুট উচ্চতার আবাসন৷ এই দুই টাওয়ারকে জুড়েই ৩২০ ফুট উচ্চতায় তৈরি হচ্ছে ক্লাব হাউস ‘অ্যাটমস্ফিয়ার’৷ সব মিলিয়ে মেঘের কোলে এই ক্লাব হাউস হবে ৫৫ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে৷ ক্লাব হাউসের নির্মাণে ব্যয় খরচ ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা৷ টাওয়ার এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় হবে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা৷ এমনটাই জানাচ্ছে নির্মাণ সংস্থা৷ atmosphererz

কী ব্যবস্থা থাকছে এই ভাসমান ক্লাব হাউসে? নির্মাণ সংস্থার নীল নকশা  অনুযায়ী, এখানে থাকবে একাধিক সুইমিং পুল, একটি স্পা, স্কোয়াশ কোর্ট, ব্যাডমিন্টন খেলার জায়গা৷ এ ছাড়াও থাকবে মিনি সিনেমা হল৷ মুক্ত পার্টি ডেক. একটি অ্যাম্পি থিয়েটার৷ তার সঙ্গে মিনি গলফ গ্রাউন্ড৷

- Advertisement -

শুধু তাই নয়, এই জোড়া আবাসনকে ঘিরেই নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ বহুতল আবাসন এবং ক্লাব হাউস হবে এক্কেবারে পরিবেশ-বান্ধব৷ বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে রাখা হবে জলাধারে৷ সেই জল পরিশোধন করে যেমন আবাসিকদের চাহিদা মেটানো হবে, তেমনই বায়ুমণ্ডলে ভাসমান উদ্যানের গাছপালার পরিচর্যার কাজেও লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে ‘অ্যাটমস্ফিয়ার’-এর নীল নকশায়৷ এছাড়া আকাশেই সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে নির্মাণ সংস্থাটির৷ atmosphere

নির্মাণ সংস্থা দাবি করছে, অত্যাধুনিক জীবনযাপনের জন্য গড়ে ওঠা এই আবাসন এবং ক্লাব হাউসের সবকিছু মিলবে হাতের কাছেই৷ সমস্ত আবাসনই হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত৷ চিরাচরিত শক্তি সংরক্ষণে বিকল্প শক্তির (সৌর) ব্যবহার করা হবে৷ বায়ুমণ্ডলে নির্মিত ক্লাব হাউসের পরিচালন খরচ ভূ-তলের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম হবে বলেই দাবি ফোরামের৷
ইতিমধ্যেই ইএম বাইপাসের ধারে এই ভাসমান ক্লাব হাউস গড়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ কাজ চলছে জোর কদমে৷ আশা করা যাচ্ছে, দু’এক বছরের মধ্যেই এই মহানগরের মুকুটে আরও একটা পালক জুড়বে৷ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজাইনে কলকাতার গর্ব হতে চলেছে ‘অ্যাটমস্ফিয়ার’৷

———————————————————————————————————————————————————–

Advertisement ---
---
-----