ব়্যাগিংয়ের উপর তথ্যচিত্রে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

নয়াদিল্লি: ব়্যাগিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজ তথা দেশকে মুক্ত করতে কড়া নিয়ম তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)৷ কিন্তু, নিয়ম তৈরি করলেই তো অপরাধ থেমে থাকে না৷ প্রয়োজন হয় সচেতনতার৷ তাই দেশের নাগরিকদের সচেতন করে ব়্যাগিং রুখতে নিয়ম প্রবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক সংস্থার পক্ষ থেকে৷ এমনই একটি প্রচারমূলক কর্মসূচি হল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম তৈরির প্রতিযোগীতা৷ সম্প্রতি সেই প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে ইউজিসি৷ এই প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করে নিয়েছে ইন্দোরের সিমবায়োসিস ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স৷ ‘দ্য লাস্ট ওয়াক’ নামের একটি তথ্যচিত্রের জন্য প্রথম স্থান অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি৷

ব়্যাগিং রুখতে সক্রিয় কতগুলি পদক্ষেপ নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন৷ যার মধ্যে অন্যতম ছিল মিডিয়া ক্যাম্পেইন৷ পদক্ষেপের অংশ হিসাবে, ইউজিসির ওয়েবসাইটে ব়্যাগিংয়ের উপর তৈরি ফিল্ম আপলোড করে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি৷ এই পদক্ষেপকে আর একটু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ২০১৭ সালের শেষের দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম তৈরির প্রতিযোগীতা চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন৷ উদ্দেশ্য, পড়ুয়াদের মধ্যে ব়্যাগিং সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা করা৷ সম্প্রতি এই প্রতিযোগীতায় জয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ইউজিসি৷ এই তালিকায় মোট ১০টি বিজয়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ করা হয়েছে৷

বিজয়ীদের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্দোরের সিমবায়োসিস ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স৷ ‘দ্য লাস্ট ওয়াক’ নামের একটি তথ্যচিত্রের জন্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি৷ ‘কিয়ারা’ নামের তথ্যচিত্রের জন্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিলাসপুরের গুরু ঘাসিদাস বিশ্ববিদ্যালয়৷ তৃতীয় স্থানে রয়েছে অসম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি তথ্যচিত্রটির নাম ‘রোহান’৷ সাহারানপুরের শোভিত বিশ্ববিদ্যালয় ‘হোয়াই আই রিফিউজড’-এর জন্য চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে৷ ‘দর্পন আ রিফ্লেকশন’ নামের তথ্যচিত্রের জন্য পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ হায়দরাবাদ৷

- Advertisement -

এই প্রতিযোগীতায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে ইন্দোরের আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়৷ ‘দ্য ওয়র্স্ট ডে’ নামের তথ্যচিত্রের জন্য এই স্থান পেয়েছে শ্রী বৈষ্ণব বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়৷ ‘উমিদো কা আকাশ’ নামের তথ্যচিত্রের জন্য সপ্তম স্থান অর্জন করেছে জয়পুরের মনিপাল ইউনিভার্সিটি৷ কর্নাটকের মনিপাল ইউনিভার্সিটি অধিকার করে নিয়েছে অষ্টম স্থান৷ ‘শ্যাডো’ নামের তথ্যচিত্রের জন্য এই স্থানটি অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি৷ নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ম্যাঙ্গালুরুর ইয়েনেপোয়া ইউনিভার্সিটি এবং মহারাষ্ট্রের সিমবায়োসিস ইন্সটিটিউট অফ ডিজাইন৷ ইয়েনেপোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি তথ্যচিত্রটির নাম ‘দ্য আনসাইটেড’ এবং সিমবায়োসিস ইন্সটিটিউট অফ ডিজাইনের তৈরি তথ্যচিত্রটির নাম ‘টার্ন অ্যারাউন্ড’৷

এই তথ্যচিত্রগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সম্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে৷ তবে, তথ্যচিত্র প্রস্তুতকারকেও কৃতিত্ব দেওয়া হবে৷ প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থানের অধিকারিকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে পুরষ্কৃত করা হবে৷ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধীকারীদের যথাক্রমে তিন লক্ষ ও দুই লক্ষ টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে৷ বিজয়ীদের তালিকার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন৷ সেই অনুষ্ঠানেই জয়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরষ্কার৷

Advertisement ---
-----