স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: মাধ্যমিকে ৬১৬ পেয়েও চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না বীরভূম তাঁতিপাড়ার মৌমিতার৷ বাবার যে ব্যবসায় তেমন লাভ নেই৷ অভাবের সংসার৷ এরমধ্যে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানোই চিন্তার৷

মৌমিতা দাস৷ তাঁতিপাড়া গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে সে৷ অথচ ভাল রেজাল্ট এখন তার ভাবনার কারণ৷ অভাব, অনটন তাদের সংসারে নিত্যদিনের সঙ্গী৷ কিন্তু সবরকম প্রতিকূলতাকেই জয় করে এগিয়ে চলেছে এই সাহসিনী৷ যেমন অভাবকে সঙ্গে নিয়েই এবার মাধ্যমিকে ৬১৬ নম্বর পেয়েছে সে৷

আরও পড়ুন: ‘ভীরু’ মোশারফ নির্বাচনে লড়বেন না, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

তাতিপাড়া আইটি গার্লস হাইস্কুল থেকে ৬১৬ নম্বর পেয়ে সে মাধ্যমিক পাশ করেছে। কিন্তু তার উচ্চশিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা৷ মৌমিতা দাসের বাবা উদয়শঙ্কর দাস একজন তাঁতশিল্পী৷ এককালে এই তাতিপাড়ার তাঁতের ব্যাপক চাহিদা ছিল৷ বাজারজোড়া খ্যাতি ছিল৷ জেলায় তো বটেই! রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেও এই তাঁতিপাড়া থেকে তাঁতের জিনিস যেত৷

কিন্তু এখন বাজারে মন্দা৷ সেই তাঁতের জিনিসের আর সেই চাহিদা নেই এখন৷ ফলে বাজাকে সেভাবে রফতানিও হয় না৷ ফলে যারা তাঁতশিল্পর সঙ্গে যুক্ত তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে৷ আগামীদিনে তাঁদের সংসার চালানোই দায় হয়ে উঠছে৷ এই অবস্থায় মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন উদয়বাবু৷

আরও পড়ুন: FIFA WORLD CUP প্লেয়ার্স প্রোফাইল: মহম্মদ সালাহ

মৌমিতারা দু’বোন৷ বড়দিদি কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে নার্সিং ট্রেনিং করেছে৷ একার আয়ে বড় মেয়েকেই কষ্ট করে পড়িয়েছেন উদয়শঙ্করবাবু৷ আর ছোট মেয়ে সদ্য মাধ্যমিক পাশ করে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাইছে৷

মৌমিতা দাস জানায়, বড় হয়ে সে শিক্ষিকা হতে চায়৷ যারা গরীব৷ যাদের পড়াশোনা করার সামর্থ্য নেই৷ সেইসব পড়ুয়াদের বিনা পয়সায় পড়িয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চায়৷ দারিদ্র্য যে কতটা প্রতিকূলতার মুখে দাঁড় করায় তা মৌমিতা বেশ জানে৷ পাশাপাশি এটাও বোঝে, সমাজের কেউ যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে কিন্তু অনেকটা সুবিধা হয়৷

আরও পড়ুন: OMG! শাকিবের সন্তানের মা হতে চলেছেন বুবলী!

অভাব, বাধা, প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে সরিয়ে এগিয়ে চলার সাহসটাই আসল শক্তি৷ বড় হওয়ার খিদেটাই আসল৷ অদম্য ইচ্ছে আর অধ্যাবসায়ের ডানায় ভর করেই উড়ে যাওয়া যায় বহু দূর৷ মাধ্যমিকের মার্কশিটে তার প্রমাণ রেখেছে মৌমিতা৷

ভবিষ্যতেও এভাবেই এগিয়ে যাবে সে৷ মৌমিতার বাবা উদয়শঙ্কর দাস জানান, জানি না এই অভাবকে কাটিয়ে মেয়ের স্বপ্নকে কতটা বাস্তবের মাটিতে জায়গা দিতে পারব৷ এটাও জানি, মেয়ের এই সাফল্য আজ গোটা তাঁতিপাড়ার গর্ব৷ আমি বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারিনি৷ মেয়েটাকে পড়ানোর ইচ্ছে তো রয়েছে৷ কিন্তু জানি না কত দূর পড়াতে পারব৷’’

আরও পড়ুন: গণপিটুনি রুখতে সচেতনতার প্রচারে প্রসাশন

----
--