লখনউ: বন্যায় ভাসছে উত্তরপ্রদেশ৷ বিভিন্ন নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে৷ টানা বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে একাধিক জায়গায়৷ গত ২৪ ঘন্টায় বন্যা ও বৃষ্টিতে ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে৷
পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে প্রায় ২৩২টি বাড়ি৷ প্রশাসনিক এক আধিকারিকের কথায় বন্যার্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছতে সারা দিন রাত খাটছেন উদ্ধারকারীরা৷ নিরাপদ জায়গায় সরানো হচ্ছে দুর্গতদের৷

শুকনো খাবার, পানীয় জল, জামা কাপড় দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷ নৌকার করে উদ্ধারকারীরা পৌঁছে যাচ্ছেন বন্যা কবলিত এলাকায়৷ বিভিন্ন এলাকায় ভেসে গিয়েছে রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে৷ তবে এরই মধ্যে সুখবর শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ আবহবিদদের মতে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে কমবে বৃষ্টির প্রকোপ৷

বৃষ্টি কমলে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর নামবে বলেও আশা করা হচ্ছে৷ জল নামলে বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক্টর করে ত্রাণ পৌছনো হবে বলে পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন৷ এই ব্যাপারে রাজ্যের খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে বন্টন সংস্থাগুলির কাছে নির্দেশিকাও পৌঁছে গিয়েছে৷

পড়ুন: সমস্যা কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘রয়্যাল’ ক্যালকুটা পোলো ক্লাব

এছাড়াও ত্রাণ শিবিরগুলিতে মশা সহ পোকা মাকড়ের উৎপাত এড়াতে মশারি বিলি করা হচ্ছে৷ দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র৷ খোলা হয়েছে একাধিক মেডিক্যাল ক্যাম্প৷ জলবাহিত রোগ, যেমন কলেরা, ডায়েরিয়া রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ শুক্রবার আকাশ পথে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷

তিনি ঘুরে দেখেন উন্নাও, কানপুর, ফারুক্কাবাদ৷ সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে কানপুরের মত শহরেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে৷ গঙ্গার জলস্তর বেড়ে বিভিন্ন ঘাট ও সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন৷ প্রায় ৩৫টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি৷ বিপদসীমা থেকে মাত্র ৫০-৬০ সেমি নীচ দিয়ে বইছে গঙ্গার জল৷

বন্যাত্রাণ বিভাগের আধিকারিক জানান, দুদিন আগেই গোলাগঞ্জের কাছে গুলাব সিনেমা এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি বৃষ্টির ফলে ভেঙে পড়ে৷ পুরসভার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন৷ যায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা৷ বাড়িটির আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়৷ ভেঙে পড়া অংশ বাদ দিয়ে বাড়িটির বাকি অংশও বিপজ্জ্নক অবস্থায় থাকায়, তা ভেঙে ফেলা হয়৷

দুদিন আগেও রিলিফ কমিশনার সঞ্জয় কুমার ইতিমধ্যেই ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করে নির্দেশিকা পাটান প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের কাছে৷ শনিবার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল৷ একই তথ্য দেয় লখনউয়ের আবহাওয়া দফতরও৷ তাদের পক্ষ থেকেও রাজ্য সরকারের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছয়৷

----
--