ওড়ার অনুমোদনই ছিল না মুম্বইয়ে ভেঙে পড়া বিমানটির

মুম্বই: বিনা অনুমতেই উড়ান শুরু করে মুম্বইয়ের দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানটি৷ অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক সূত্রে অন্তত তেমনই খবর৷ গত দেড় বছর ধরে ওই বিমানটিকে মেরামত করা হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে৷ তাই এই রকম একটি ত্রুটিপূর্ণ বিমান নিয়ে কেন আকাশে উড়লেন চালক ও সহ যাত্রীরা, তানিয়েই উঠছে প্রশ্ন৷

মন্ত্রক সূত্রে আরও খবর বৃহস্পতিবার বিমানটি অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়৷ তারপরেই সেটি একটি নির্মীয়মান বহুতলের ওপর ভেঙে পড়ে৷ বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাগ্রস্থ ‘‌বিচক্র্যাফ্ট কিং এয়ার সি ৯০’‌ বিমানটি শেষ বারের মতো উড়েছিল ১০ বছর আগে৷

সূত্রের খবর ২০০৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিমানটি শেষবার আকাশে ওড়ে৷ সে সময় এই বিমানটি উত্তরপ্রদেশ সরকারের মালিকানাধীন ছিল। তবে ২০১৪ সালে বিমানটি উত্তরপ্রদেশ সরকারের থেকে হাত বদল হয়ে মেসার্স ইউওয়াই অ্যাভিয়েশন সংস্থার কাছে যায় বলে খবর। যা নিয়ে রীতিমত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

কিন্তু দুর্ঘটনাটি যদি কয়েক মিনিট এদিক-ওদিকে ঘটত, তাহলে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যেত৷ কারণ দুর্ঘটনা ঘটার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই জনা ৫০ নির্মাণ কর্মী দুপুরের খাবার খেতে বেরিয়ে যান৷ বলা যায়, বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা৷

পড়ুন: পরিশ্রম কমাতে কাজের দূরত্ব কমানোর আর্জি রেলে

অসামরিক বিমান মন্ত্রক সূত্রে আরও খবর, প্লেনের যে চারজন কর্মী মারা গিয়েছেন তাঁরা হলেন, দুই পাইলট – ক্যাপ্টেন প্রদীপ রাজপুত ও ক্যাপ্টেন মারিয়া জুবেরি এবং এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার সুরভি গুপ্তা ও জুনিয়র টেকনিশিয়ান মণীশ পান্ডে।

সহকারী পাইলট মারিয়ার স্বামী পি কুঠারিয়া গোটা ঘটনার জন্য অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মেসার্স ইউওয়াই অ্যাভিয়েশনের বিরুদ্ধে। এদিকে, সুরভি দুমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গেই মৃত্যু হয় গোবিন্দ পন্ডিত নামে এক পথচারিরও।

প্রথমে মনে করা হয়েছিল তিনি বোধহয় এক নির্মাণকর্মী। পরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান থেকে জানা যায় দুর্ঘটনার সময় গোবিন্দ ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্লেন থেকে জ্বলন্ত জ্বালানি তেল পড়ে তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

Advertisement ---
-----