ওয়াশিংটন: সবে পাকিস্তানে ক্ষমতায় এসেছেন ইমরান খান৷ এর মধ্যেই আমেরিকার কাছ থেকে বড় ধাক্কা খেলেন তিনি৷ তাও আবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে৷ পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্ত মার্কিন সেনার৷ মার্কিন মুলুক থেকে যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ইসলামাবাদকে দেওয়ার কথা ছিল তা আর দেওয়া হচ্ছে না৷ এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেনা৷

অর্থ সাহায্য বন্ধের কারণ জঙ্গিদমনে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে ইসলামাবাদ ব্যর্থ৷ পেন্টাগনের মুখপাত্র কে ফউলকনর সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, জঙ্গিদমনে ইসলামাবাদ কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত৷ জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্যের কথা জানায় আমেরিকা৷ দুটি কিস্তিতে এই অর্থ দেওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু কথামতো জঙ্গিদমনে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় চলতি বছর মার্চ মাসে পাকিস্তানকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় আমেরিকা৷ এবার দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০ মিলিয়ন ডলারও খোয়াতে চলেছে ইসলামাবাদ৷ এই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা হবে৷

পাকিস্তানে হাক্কানি নেটওর্য়াক আমেরিকা ও আফগানিস্তানে বহু প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে যুক্ত৷ এছাড়া রয়েছে তালিবান ও লস্কর-ই-তইবা জঙ্গি গোষ্ঠী৷ এই জঙ্গি সংগঠনগুলির নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চল৷ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রশাসন৷ জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব জিম ম্যাটিস পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্যের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না৷ তাই প্রথম কিস্তির ৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সরবরাহ করা হয়নি পাকিস্তানকে৷ এবার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না দেওয়ার ব্যাপারে মার্কিন সেনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ট্রাম্প প্রশাসনের৷ সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ হাতছাড়া হবে ইসলামাবাদের৷

চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানকে সব ধরনের আর্থিক অনুদান কমিয়ে আনা হবে৷ আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে জঙ্গি মদতের৷ যদিও এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান৷

----
--