ছাদ দাও, সস্তায় বিদ্যুৎ নিয়ে যাও

বাড়ির ছাদকে কাজে লাগালে বিদ্যুৎ খরচ কমবে৷ কারণ বেশ কিছু সৌর শক্তি উৎপাদনকারী সংস্থার স্লোগান এখন- ছাদ দাও বিনিময়ে সস্তায় বিদ্যুৎ নাও৷ ওইসব সংস্থাগুলি কারখানা, মল, বাণিজ্যিক ভবন এবং বড় বড় আবাসনের ছাদটাকে কাজে লাগাতে চাইছে যাতে সেখানে সৌরশক্তি উৎপাদনকারী যন্ত্র  বসানো যায়৷ বিনামূল্যে অথবা নাম মাত্র ভাড়ায় সেখানে ওই যন্ত্র বসাতে দিলে বিনিময় বাজারের চেয়ে অনেক সস্তায় বিদ্যুৎ দেওয়া হবে ছাদের মালিকদের৷
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছাদটিকে কোনওভাবে ব্যবহার না করেই ফেলে রাখা হয়৷ সাধারণত এক কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ তৈরি করতে ছাদে ৮বর্গমিটার জায়গা প্রয়োজন এবং ন্যূনতম ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম যন্ত্র পাওয়া যায়, ফলে ছাদে অন্তত প্রায় ২৪০ বর্গমিটার জায়গা পাওয়া গেলেই সেখানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যেতে পারে৷ তবে এই বিষয়ে সেভাবে কোন মডেল চুক্তি নেই যাতে বলা হয়ে থাকবে এই ধরনের সমঝোতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা কতটা কি দেবে এবং ছাদের মালিকরা কতটা কি পাবে৷ তবে এই রকম একটা চু্ক্তিতে গেলে একদিকে লোডশেডিং এড়ান যাবে৷ অন্যদিকে আবার এ ভাবে দীর্ঘমেয়াদি (যেমন ২০-২৫ বছরের) চুক্তি করার সময় বিদ্যুতের দাম ‘ফিক্সড’ করে নিলে পরে বিদ্যুতের দাম বাড়লেও তাতে কোনও গায়ে লাগবে না৷ তাছাড়া মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হবে যেহেতু সব জায়গায় সূর্য-রশ্মির তেজ সমানভাবে থাকে না৷ যেমন রাজস্থানে সূর্যের তেজ খুব বেশ থাকলেও তা থেকে পূর্বদিকে সরে আসলে সেই তেজ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়৷
উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট বাড়িতে বসবাসকারীরা যারা নিচের দিকে থাকেন তাদের সাধারণত উপরে উঠে ছাদ যাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি থাকে না৷ এরফলে অনেক জায়গায় একেবারে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয় যেন ছাদটা শুধুমাত্র  একেবারে শীর্ষে বসবাসকারী ফ্ল্যাট মালিকদের জন্যই রয়েছে ৷ কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চুক্তিতে বলা থাকে ছাদের মালিকানা সব কটি ফ্ল্যাট মালিকেরই৷ অর্থাৎ ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র বসাতে ওই শীর্ষে থাকা ফ্ল্যাট মালিকের ইচ্ছে অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না৷ ওই আবাসনের সব ফ্ল্যাট মালিকরা বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এটি বসাতেই পারেন৷ আর ওই কম দামে পাওয়া বিদ্যুৎ আবাসনে লিফট এবং ‘কমন প্যাসেজে’র আলো পাখার ও অন্যান্য বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কাজে লাগান যেতে পারে৷   

Advertisement
-----