দড়ি ভরসা, খরস্রোতা নদী এভাবেই পেরোচ্ছেন স্থানীয়রা

চামোলি (উত্তরাখণ্ড) : ঝোড়ো বৃষ্টি আর নদীর জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে সেতু৷ জলের প্রবল স্রোতে সেই সেতুকে আর খুঁজেও পাওয়া যায় না৷ মাস দুয়েক আগেকার ঘটনা৷ তারপর থেকে দড়িই ভরসা স্থানীয় বাসিন্দাদের৷

উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে দড়ি নিয়ে খরস্রোতা নদী পেরোনোর ছবি এখন নিত্যদিনের৷ পাহাড় থেকে নেমে আসছে জলের স্রোত৷ সেই স্রোত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট৷ তবু জীবনের প্রয়োজনে পারাপার জরুরি৷ তাই সেতু না থাকায়, এখন দুই পাড়ে দড়ি বেঁধে যাতায়াত করেন চামোলির বাসিন্দারা৷ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই পারাপারে যে কোনও দিন ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা, হতে পারে প্রাণহানি৷ তাও নিরুপায় হয়েই এভাবে যাতায়াত করেন তাঁরা৷

এ ব্যাপারে কথা বলা হয় চামোলির জেলাশাসক স্বাতী ভাদোরিয়ার সঙ্গে৷ তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে একটি সেতু বানাবার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর৷ তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ এখনও কাজ শুরু হয়নি৷ জেলাশাসকের বক্তব্য যতদিন না ব্রিজ বানানোর কাজ শুরু হচ্ছে ততদিন একটা অস্থায়ী ব্যবস্থাও করে দেবে স্থানীয় প্রশাসন৷ তবে বৃষ্টির মরসুম কাটলেই ব্রিজ বানানোর কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে৷

- Advertisement -

পড়ুন:অবসরের ২০ বছর পরও স্কুলে প্রত্যেকদিন ক্লাস নেন এই শিক্ষক

কিছুদিন আগে, রাঁচি থেকেও একই ছবি নজরে এসেছিল৷ পায়ে হেঁটে নদী পেরোতে দেখা যায় ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার ঝরম উপজাতিভুক্ত এলাকার মানুষজন। বাধ্য হয়েই প্রয়োজনীয় কাজ সারতে তাদের নদী পায়ে হেঁটে পেরিয়ে যেতে হয় লাতেহারে। বুক সমান জল হোক, বর্ষার স্রোতে নদীতে জোয়ারই থাকুক না কেন, প্রয়োজনীয় কাজ এভাবেই সারেন স্থানীয়রা৷ তাঁরা জানান, ১২ বছর আগে, সেতু তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছিল এই সুকরি নদীর ওপরে। কিন্তু সেই কাজ আজও শেষ হয়নি।

মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে কাজ মাঝপথেই থেমে রয়েছে সেতুর।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি প্রশাসন কাজ শেষ করতে চেয়েছিল, কিন্তু মাওবাদীদের হুমকিতে সেই কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেতু। ফলে তাঁদের সমস্যা সেই তিমিরেই পড়ে রয়েছে। ভরা বর্ষায় নিজেদের প্রয়োজনে লাতেহারেও যেতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

Advertisement
-----