লন্ডন: ‘আমার জীবন খুব ছোট, গুজবে কান দেওয়ার সময় নেই’, নিজের সম্পর্কে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভেলিস্ট ভি এস নাইপল৷ সত্যিই গুজবে কান দেননি ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণ করা এই বিখ্যাত উপন্যাসিক৷ নাহলে একের পর এক লিখতে পারতেন না ‘দ্য ম্যাজিস্টিক ম্যাসিওর’, ‘দ্য সাফরেজ অফ এলভিরা’, ‘মিগ্যাল স্ট্রিট’, এ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’ এবং ‘দি এনিগমা অফ অ্যারাইভালে’র মত কালজয়ী উপন্যাস৷ নাইপলের কলম জন্ম দিয়েছে অসংখ্য অমর চরিত্র৷ বুকার এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও এসেছে নাইপলের ঝুলিতে৷ কিন্তু সৃষ্টিকর্তাকেও থেমে যেতে হয় একদিন৷ ৮৫ বছর বয়সে লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভি এস নাইপল৷

আরও পড়ুন:ব্রিজ নেই, নদী পেরিয়ে স্কুলে যায় কাশ্মীরের খুদেরা

Advertisement

কখনও জোসেফ কনরাড তো কখনও চার্লস ডিকেন্স ইংরাজি সাহিত্যের দিকপালদের সঙ্গে নাইপলের তুলনা টানা হয়েছে অনেকবার৷ কাজের খোঁজে ভারত থেকে ত্রিনিদাদে পাড়ি দেওয়া এক পরিবারে ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন নাইপল৷ বাবা শিবপ্রসাদ ইংরাজি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ছেলের ছিল সাহিত্যের প্রতি টান৷ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনো শেষ করেন৷ পরে ইংল্যান্ডে পাকাপাকিভাবে থাকা শুরু করলেও ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বজুড়ে৷ রচনা করেছেন ‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’, ‘অ্যামং দ্য বিলিভার্সর’ মত অমর সাহিত্যের৷

আরও পড়ুন:বিধায়কের কাছে এক কোটি টাকা তোলা চেয়ে হুমকি মেল দাউদের

খাপ খোলা তলোয়ারের মতো কখনও মন্তব্য করেছেন লেখিকাদের নিয়ে, তো কখনও আফ্রিকা, ভারত , ইসলাম নিয়ে৷ একবার তো সোজাসুজি বলেই দিয়েছেন, ‘মেয়েরা আবেগপ্রবণ, তাদের লেখালেখিতেও সেই সঙ্কীর্ণ চিন্তাধারা থাকে৷ সে কারণেই জেন অস্টেন থেকে ঝুম্পা লাহিড়ি কেউই সাহিত্যিক হিসাবে প্রথম শ্রেণির নন৷’ কখনও ‘অ্যান এরা অব ডার্কনেসে’ নিজের পূর্বপুরুষের দেশ ভারতের অপরিচ্ছন্নতা বর্ণনা করেছেন কড়া ভাষায়৷ তবে শুধু কী সমালোচনা? বিশ্ব সাহিত্য উজাড় করে দিয়েছে সম্মান এবং প্রশংসাও৷ ১৯৭১ সালে ‘ই অ্যা ফ্রি স্টেট’-এর জন্য বুকার পুরস্কার জিতেছেন, ২০০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মহান সাহিত্যিক৷

আরও পড়ুন:মস্কোর আরও কাছাকাছি ইসলামাবাদ, বার্তা দিল পাকিস্তান

----
--