জয়পুর: আশ্বাস দিয়েছিলেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ১৮০টি কেন্দ্রেই জিতবেন৷ সেই আশ্বাস নাকি ভুয়ো৷ এমনই দাবিতে নিজেরই বিধানসভা কেন্দ্র ঝালাওয়ারে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া৷

শুধু নিজের বিধানসভা আসনে বিক্ষোভের মুখে পড়াই নয়, অস্বস্তি বেড়েছে আরও একটি কারণে৷ খোদ বিজেপি সমর্থকদের একাংশই এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে৷ ফলে রাজ্যের নির্বাচনের আগে যথেষ্ট অস্বস্তি ও চিন্তায় রাজস্থান বিজেপি৷

Advertisement

শনিবার ঝালাওয়ারে বিজেপি সদস্য ও সমাজকর্মী প্রমোদ শর্মার নেতৃত্বে একটি বাইক রালি করা হয়৷ উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের হাতে ছিল কালো পতাকা৷ সঙ্গে ছিল প্ল্যাকার্ড৷ যাতে লেখা বসুন্ধরা গো ব্যাক, বসুন্ধরা কুইট ঝালাওয়ার৷ সবমিলিয়ে পরিস্থিতি যে ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে, তা হয় আঁচ করতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই৷

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাইক ব়্যালিতে সামিল হয় ৫০০-রও বেশি বাইক, হাজার খানেক বিজেপি সমর্থক৷ ঝালাওয়ারের বাজারের ভিতর দিয়ে ব়্যালি শেষ হয় সংলগ্ন ঝালরাপতান শহরে৷ মুখ্যমন্ত্রীর নিজের এলাকাতেই কোনও উন্নয়ন নেই, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের৷ সেই দাবিকে আরও একবার উসকে দিল বিক্ষুব্ধ বিজেপি সমর্থকদের ব়্যালি৷

এছাড়াও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বসুন্ধরা রাজে সরকারের বিরুদ্ধে৷ তিরিশ বছরের শাসনে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই করেনি সরকার, দুর্নীতির হার ক্রমশ বাড়ছে, এরকম একাধিক অভিযোগে এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঝালাওয়ার৷

পাঁচবারের নির্বাচিত সাংসদ তিনি, ঝালাওয়ার থেকে বিধায়ক হিসেবে তিন বার জিতেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসুন্ধরা, তারপরেও কোনও কাজই হয়নি৷ দাবি বিক্ষুদ্ধদের৷ এমনকি বিজেপির সংহতি নষ্ট করে দেওয়ার পিছনেও রাজে সরকারের হাত রয়েছে বলে দাবি তাঁদের৷

তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন, ঝালাওয়ারের বিজেপি সভাপতি৷ তিনি বলেন যে সব দুর্নীতিগ্রস্থ বিজেপি কর্মীদের সরিয়ে দিয়েছেন বসুন্ধরা, তাদেরই একাংশ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে৷ মিথ্যা অভিযোগ আনছেন রাজে সরকারের বিরুদ্ধে৷

রাজস্থানে এবছর বিধানসভা ভোট রয়েছে। আগামী বছরের লোকসভা ভোটের আগে এই নির্বাচন বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যের ফলাফল বড় প্রভাব ফেলবে সংসদের নির্বাচনে। এমনিতে রাজস্থান বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। তবে গত এক-দেড় বছরে নানা ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া ও নেতৃত্বের উপরে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেটাকে কাজে লাগিয়েছে বিরোধী কংগ্রেস।

সমীক্ষা বলছে ২০১৮ সালে ভোট শেয়ার উল্টে যেতে পারে। বিজেপি পেতে পারে মাত্র ৩৯ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস পেতে পারে ৪৪ শতাংশ ভোট শেয়ার। এছাড়া অন্যান্যরা পেতে পারে ১৭ শতাংশ ভোট৷

----
--