রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পরেও উপাচার্যের পদত্যাগকে ঘিরে ধোঁয়াশা অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ পদত্যাগ করছেন কি না তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে জল্পনা কল্পনা৷ শনিবার রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরেও অব্যাহত রইল উপাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা৷

বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন সুরঞ্জন দাশ৷ কিন্তু, গত শুক্রবার ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই অসুস্থতা বোধ করেন রাজ্যপাল৷ অসুস্থতার কারণে ওইদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ। তাই শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান সুরঞ্জন দাস৷

কিন্তু, রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পরও অব্যাহত রইল তাঁর পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা৷ এদিন বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের সঙ্গে এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেই সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য৷ তিনি বলেন, ‘‘বৈঠকটি অত্যন্ত গোপনীয়৷ এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা যাবে না৷’’

- Advertisement -

এই বছর স্নাতকের ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হতেই একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ আর্টস ফ্যাকাল্টির ছয়টি বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষাকে নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা৷ পড়ুয়া, অধ্যাপক থেকে শুরু করে প্রাক্তণী, সবাই সামিল হন প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে৷ কিন্তু, প্রথমে প্রবেশিকা ফিরিয়ে আনা হলেও, ৪ জুলাইয়ের কর্মসমিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই বছর প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হবে না৷

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা৷ আরও জোরদার হয় তাঁদের আন্দোলন৷ আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়৷ একে একে ভরতি প্রক্রিয়া বয়কট করেন গোটা কলা বিভাগের অধ্যাপকরা৷ এমনকী, উপাচার্যকে ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ করে পড়ুয়ারা৷ ঘেরাও থেকে মুক্তি পেয়ে পরের দিন প্রথমে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে ও পরে আচার্যের সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য৷

তখনই জানা গিয়েছিল, পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য৷ অন্যদিকে, আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ বাড়াতে আর এক ধাপ এগিয়ে যান আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা৷ প্রবেশিকা ফিরিয়ে আনার দাবি-সহ আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করেন ২০ জন পড়ুয়া৷ তারপর, ১০ জুলাই জরুরী কর্মসমিতির বৈঠক ডেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

এভাবে কাজ চালানো সম্ভব নয়৷ রাজ্যপালের কাছে অব্যাহতি চাইব৷ ছাত্রদের আন্দোলনের জেরে প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর এমনই মন্তব্য করেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস৷ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের আর্জি জানাবেন৷ তাঁর সঙ্গে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগের আর্জি জানাবেন সহ উপাচার্য প্রদীপ কুমার ঘোষও৷ তারপর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগ করছেন না সহ উপাচার্য৷

মঙ্গলবার প্রবেশিকা পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পরের দিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখাও করেননি উপাচার্য৷ তাহলে কি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন সুরঞ্জন দাস? এমনই বহু প্রশ্ন উঠছিল সংশ্লিষ্ট মহলে৷ শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে জানা যায়, শুক্রবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন উপাচার্য। কিন্তু, ওইদিন রাজ্যপালের অসুস্থতার কারণে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি উপাচার্য৷

এরই মধ্যে সুরঞ্জন দাশকে পদত্যাগ না করার আর্জি জানানো হয় অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আবুটা) পক্ষ থেকে৷ আবুটার সভাপতি তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘‘এখনকার উপাচার্য সবসময় অ্যাপ্রোচেবেল৷ তিনি পদত্যাগ দিলে তাঁর পরিষেবা তো আমরা আর পাব না৷ সমালোচনা তো করবই৷ কিন্তু, এটাও স্বীকার করতে আমরা বাধ্য যে তাঁর সময়েই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত হয়েছে৷ ফলে আমরা তাকে হারাব কেন?’’

শুক্রবার দেখা করতে পারেননি৷ তাই শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ৷ বহুক্ষণ ধরে তাদের বৈঠক চলে৷ কিন্তু, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে বা তিনি কি পদত্যাগ করছেন? বৈঠক শেষে এই ধরনের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান সুরঞ্জন দাশ৷ সূত্রের খবর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিস্থিতি ছিল তা নিয়েই কথাবার্তা হয়েছে উপাচার্য ও আচার্যের মধ্যে৷ কিন্তু, বার বার অব্যাহতির কথা বলার পরেও উপাচার্য পদত্যাগ দিচ্ছেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল৷ জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়েও যাচ্ছেন না সুরঞ্জন দাস৷

Advertisement
---