পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে উপাচার্যর পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অফ জুডিশিয়াল সায়েন্সের উপাচার্য পি ঈশ্বর ভাট। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে৷

দেশের প্রথম সারিতে থাকা স্ব-শাসিত এই আইন বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয় ২০০০-এ৷ পাঁচ বছর অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার জন্য একটি করে রিভিউ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও, দীর্ঘ বছর ধরে তা হয়নি। অবশেষে ২০১৭-র ২০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ৩০ অক্টোবর তিন শিক্ষাবিদের একটি কমিটি রিপোর্ট জমা করে৷

কিন্তু সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বাধে বিপত্তি। রিপোর্টে দেখা যায় ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের কোনও সুরক্ষা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শিক্ষকদের মান অত্যন্ত খারাপ। ওই রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে। আন্দোলন শুরু করেন ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে।

- Advertisement -

তাঁদের অভিযোগ, কমিটির রিপোর্টে পরিষ্কার করে বলা আছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠনের মানের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কোনও কথা শোনা হচ্ছে না। এমনকি ক্যাম্পাসে কোনও শ্লীলতাহানির ঘটনার সম্মুখীন হতে হলেও, হস্তক্ষেপ করছেন না উপাচার্য৷

শুধু কমিটির রিপোর্ট নয়। আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পড়ুয়াদের তরফে৷ পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ” আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। যে রিভিউ কমিটি বসানো হয়েছে তারা কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বিষয় নিয়ে খতিয়ে দেখছে। সরকার থেকে সব রকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার বয়স ৬৩। এই বয়সে আমি শারীরিকভাবে এত চাপ নিতে পারছি না। পড়ুয়াদের তরফ থেকে পরিকাঠামোগত প্রত্যাশা রয়েছে৷ কিন্তু রাতারাতি তা পূরণ করা সম্ভব নয়।”

তবে আন্দোলনের জেরে উপাচার্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন পড়ুয়ারা। এ বিষয়ে অরিন্দম নায়েক বলেন, “বিভিন্ন দাবির সঙ্গে আমরা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন দাবি নিয়ে এই অবস্থানে বসেছি। তবে আমরা কোনও ক্লাস বয়কট করিনি। যাঁদের ক্লাস করতে ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা ক্লাস করছেন। ’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমরা গত তিন মাস আগেই তাঁর উপর আস্থা নেই বলে উপাচার্যকে জানিয়েছিলাম। তারপরও তিনি পদে রয়েছেন। আমাদের দাবি, উনি অবিলম্বে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। আমাদের আন্দোলনের পর পদত্যাগ করা ছাড়া ওনার কাছে আর কোনও পথ ছিল না।”

Advertisement ---
---
-----