শতাধিক অনুগামী নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা

সৌমেন শীল, চুঁচুড়া: শতাধিক কর্মী নিয়ে বিজেপি শিবিরে নাম লেখালেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ মালিক। হুগলী জেলার ঘাস ফুল শিবিরের এই নেতা বুধবার শতাধিক অনুগামী নিয়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখান।

বলাগড় এলাকার নেতা বিশ্বনাথ মালিক রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে। একাধিকবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছেন হাত প্রতীকে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের সময়েও তিনি কংগ্রেসেই ছিলেন। তারপরেও একাধিকবার লড়েছেন কংগ্রেসের প্রতীকে।

আরও পড়ুন: শিক্ষা দফতরে চলল গুলি, নিহত ১০

২০০৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখান বিশ্বনাথ মালিক। পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করে জিতেও ছিলেন। মানুষের রায় নিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বাদ পেয়েছিলেন ঘাস ফুলের পতাকাতলে আসার পরেই। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেনি রাজ্যের শাসকদল। বলাগড় এলাকা থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবেই লড়াই করেছিলেন। যদিও জয় অধরা থেকে গিয়েছিল।

সেই বিশ্বনাথবাবুই বুধবার হাতে তুলে নিয়েছেন বিজেপি-র পতাকা। হুগলী জেলা বিজেপির-র কার্যালয়ে এদিন বিকেলের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি গেরুয়া নামাবলী গায়ে জড়িয়ে নেন। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। বলাগড় থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করে সাধারণ মানুষকে স্বচ্ছ পরিষেবা উপহার দেওয়ার শপথ নিয়েছেন বিশ্বনাথ মালিক।

আরও পড়ুন: মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ে শহিদ বেলডাঙার নির্মল

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বলাগড় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হুগলী জেলার বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২০০৬ সালে জিতেছিলেন সিপিএমের দিবাকান্ত রাউত। বিধায়কের মৃত্যু হওয়াতে ২০০৭ সালে উপনির্বাচন হয়েছিল ওই কেন্দ্রে। জিতেছিলেন সিপিএম প্রার্থী ভুবন প্রামানিক। সেই উপনির্বাচনে বলাগড়ে গিয়ে সভা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল ঘোষণার পর দেখা গিয়েছিল না জিততে পারলেও ভোট বেড়েছে ঘাসফুলের। এবং সেই ফল নিয়েই খুশি ছিলেন নেত্রী মমতা সহ গোটা দল।

তারপরে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়যাত্রা। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। দু’বার সরকার গঠন করেছে এই রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও বিভিন্ন রাজ্যেও বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন মমতা। জিততে না পারলেও এক দশক আগের সেই ‘ভালো ফল’ থেকেই সুদিনের শুরু হয়েছিল তৃণমূলের।

আরও পড়ুন: অতীতে ডুবে আবির

সেই বলাগড় এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার বিজেপি-তে যোগদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে পদ্ম শিবির। তাও আবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বিশ্বনাথ মালিক। যদিও এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার কথায়, “বিশ্বনাথ মালিকের দল বদলে তৃণমূলের কিছুই হবে না। বিজেপিও কোনও সুবিধা পাবে না।”

একই দাবি বামেদের। বলাগড়ের এক বাম নেতার মতে, “বিশ্বনাথ মালিকের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি দেওয়ার নাম করে এলাকার অনেক ছেলের থেকে টাকা নিয়েছিল। এই ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদেরকেই বিজেপি সঙ্গে নিয়ে চলে।”

আরও পড়ুন: দু’বছরের শিশু মুখস্ত বলে যাচ্ছে সব কটি রাজ্যের নাম!