মুম্বই: এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি) আবেদনে সাড়া দিয়ে ধনকুবের বিজয় মালিয়াকে ‘ফেরার’ ঘোষণা করল মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত৷ কালো টাকা সাদা করার ফৌজদারি অপরাধের দায়ে মুম্বই আদালতে এই আরজি জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি৷ আদালতে ইডি জানায়, একাধিক কেসের তদন্তের খাতিরে বিজয় মালিয়াকে ভারতে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সেইসব নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছে মালিয়া৷ যেসব ব্যাংক তাকে ঋণ দিয়েছিল, তাদের পাওনা মেটানোর অনুরোধেও সে কান দেয়নি৷ আর্থিক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির অভিমত, এই অবস্থায় ষাটোর্ধ্ব এই ধনকুবেরকে ‘ফেরার’ বলে ঘোষণা ভিন্ন রাস্তা নেই৷ ইডি-র এই আপিল মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে গ্রাহ্য হয় এবং সেইমতো মঙ্গলবার আদালতের পক্ষ থেকে বিজয় মালিয়া ‘ফেরার’ বলে হুকুমও জারি হয়৷

আইনবলে কেউ যদি ‘ফেরার’ ঘোষিত হয়, তাহলে লিখিত নির্দেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে হাজির দিতেই হবে৷ নয়তো তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হবে৷ দেশের বাইরে থাকলে পাকড়াও করার জন্য ইন্টারপোলকে জানানো হবে৷

মুম্বই আদালতের নির্দেশের পর ইডি-র আইনজীবী নীতীন বেনিগাঁওকর সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি-কে জানান, ‘‘ভারতে বিজয় মালিয়াকে হাজির করানোর প্রশ্নে এটা একটি কার্যকর পদক্ষেপ৷ মালিয়ার তরফেও এ এক মস্তবড় সুযোগ৷ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে সওয়াল করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি৷ তাতেও যদি তিনি ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি খাস সরকারি সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে এবং চাইলে সরকার সেগুলি বেচতেও পারবে৷’’

মুম্বই বিশেষ আদালতের এই রায় ঘোষিত হল ‘ফেরারি’ মালিয়ার একটি বিবৃতির ঠিক দুদিন বাদেই৷ ওই বিবৃতিতে মালিয়া বলেছিল, তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে তা ‘যারপরনাই একপেশে’৷ তার বিরুদ্ধে পেশ করা সমস্ত অভিযোগই খারিজ করে দিয়ে মালিয়া জানায়, তাকে বিনা দোষে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে৷ সত্যি সত্যিই তার ব্যবসায় গণেশ উলটেছে৷

ইডি-র কাছে খবর, মালিয়া এখনও ব্রিটেনে৷ সেই জন্য তারা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছে৷ কারণ, বিদেশের মাটিতে বিজয় মালিয়াকে পাকড়াও করার জন্য ইন্টারপোলকেই রেড কর্নার নোটিস অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে হবে৷ বিগত এপ্রিলেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিজয় মালিয়ার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়৷ সরকারিভাবে লন্ডনকে জানানোও হয় যে, মদ ব্যবসায়ী মালিয়াকে তারা যেন দ্রুত এদেশে ফেরত পাঠানোর বন্দোবস্ত করে৷ এই ব্যাপারে ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের আলাদা বোঝাপড়া রয়েছে৷ বন্দি প্রত্যর্পণের চুক্তি প্রক্রিয়ায় এগতে গেলে অযথা অনেক দেরি হয়ে যাবে৷ কিন্তু তার জবাবে ব্রিটিশ সরকার অজুহাত দেয়, রানির দেশের আইন অনুযায়ী এটা তারা কোনও মতেই করতে পারে না৷ তবে হ্যাঁ, দীর্ঘসূত্রী প্রত্যর্পণের বন্দোবস্তে তাদের আপত্তি নেই৷ এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে গত সপ্তাহে কেন্দ্রের অর্থ প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা বলেন, যথোচিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিজয় মালিয়াকে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সরকারি স্তরে নেওয়া হয়েছে৷

গত দোসরা মার্চ বিজয় মালিয়া ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছে৷ মালিয়ার মালিকানাধীন কিংফিশার এয়ারলাইন্স মুখ থুবড়ে পড়লে এদেশের বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার সাধের এয়ারলাইনকে বাঁচানোর জন্য ৯০০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়৷ কিন্তু বিজয় মালিয়া ঋণ বাবদ পাওয়া পুরো টাকাটাই গাপ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ৷ তবে ইডি শুধু এই ব্যাপারেই তদন্তে নামেনি৷ রংদার ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়ার নামে কালো টাকা ধোলাই অর্থাৎ মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে৷

 

----
--