জেলেই কেটেছে ভোট-পর্ব, গ্রামে ফিরতেই বিজয়োল্লাস

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ভোটের মনোনয়ন-পর্ব ঘিরে রণক্ষেত্র হয়েছিল মহম্মদবাজার৷ নানা অভিযোগে, বহু বিজেপি প্রার্থী-সমর্থককে ভোটের আগেই ঢুকতে হয়েছিল জেলে৷ কেউ কেউ তো ভোটের ফল প্রকাশেরও বহুদিন পর জামিনে ছাড়া পান৷ এরকমই একজন তারাপদ দাস৷ মহম্মদবাজারের ভুতূড়া গ্রামপঞ্চায়েতের ৫৩ নম্বর সংসদের বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন৷ ভোটে লড়েন৷ জেতেনও৷ কিন্তু কোনও আনন্দই চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি৷ রবিবার সেই আক্ষেপ পুরোদমে পুষিয়ে দিলেন তাঁর সমর্থকরা৷ যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন৷ কাঁধে করে গ্রাম ঘোরান বিজয়ী প্রার্থীকে৷

মহম্মদবাজারের ভূতূড়া গ্রামপঞ্চায়েতের ছ’টি আসনে এ বছর ভোট হয়৷ সেখানে তিনটিতে জয়ী হয় তৃণমূল৷ তিনটি দখলে পায় বিজেপি৷ এরইমধ্যে ৫৩ নম্বর সংসদটি মালাডাং গ্রামে৷ সেখানেই প্রার্থী হয়েছিলেন তারাপদ দাস৷ কিন্তু এরইমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন উত্তাল হয়ে ওঠে মহম্মদবাজার ব্লক অফিস এলাকা৷ অভিযোগ, বিজেপির মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসাকে আটকায় পুলিশ৷ পাল্টা প্রতিরোধ করে বিজেপিও৷ এই ঘটনা ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয় এলাকা৷

- Advertisement DFP -

এই ঘটনায় বীরভূম তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল অভিযোগ করেন, বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে গুণ্ডা এনে এলাকায় বোমাবাজি করেছে৷ সন্ত্রাস করেছে৷ পরবর্তীকালে পুলিশ মহম্মদবাজার ব্লক থেকে প্রায় এক হাজার জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে৷ গ্রেফতার হয় সিপিএম ও বিজেপির বহু প্রার্থী, প্রস্তাবক৷ প্রায় ২৮জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ সেই তালিকায় ছিলেন তারাপদবাবুও৷

দীর্ঘদিন জেলে থেকে দিন দশেক আগেই ফিরেছেন তিনি৷ জেলেই শুনেছেন ভোটের খবর৷ ফল প্রকাশের খবর৷ জয়ের খবর৷ গ্রামে ফিরতেই তাঁর সমর্থকরা রবিবার বিজয় মিছিল করে৷ বিকেল চারটে নাগাদ ধামসা, মাদল নিয়ে বের হয় মিছিল৷ আকাশময় ছেয়ে যায় গেরুয়া আবিরে৷ তারাপদবাবুকে রীতিমতো কাঁধে চাপিয়ে গ্রামে ঘোরান এলাকার লোকজন৷ নয় নয় করে জনা পাঁচশো লোক তো ছিলেনই সেই বিজয়োল্লাসে৷ যাঁরা গেরুয়া মেখে, মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলে এগিয়ে গিয়েছেন৷

দারুণ খুশি তারাপদ দাস৷ বলেন, ‘‘আমি জেলে ছিলাম৷ আমাকে মিথ্যা ফাঁসিয়ে জেলে রাখা হল৷ কিন্তু তৃণমূল ভেবেছিল এভাবে জেতা যায়৷ তা যে হয় না প্রমাণ হল৷ আগামী দিনে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ব৷’’ মিছিলেই ছিলেন স্থানীয় বিজেপি সমর্থক সন্দীপ বাগদি৷ তাঁর স্ত্রীও এবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন৷ সন্দীপবাবু বলেন, ‘‘গ্রামের প্রতিটা মানুষের পাশে থাকেন তারাপদবাবু৷ গোটা গ্রাম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা খুশি৷ আগামী দিনে তৃণমূলের দুর্নীতিকে আটকানোই আমাদের কাজ হবে৷’’

Advertisement
----
-----